বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে বেসামরিক শাসন জোরদারের পরামর্শ আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে

তানিয়া আক্তার ফারজানা
রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৬ pm
১০
গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে বেসামরিক শাসন জোরদারের পরামর্শ আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বেসামরিক শাসনব্যবস্থা এবং সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতন্ত্র গড়ে তুলতে বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় বেসামরিক কর্তৃত্বকে আরও সুসংহত করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা, শক্তিশালী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন এবং আইনের শাসন। এসব প্রতিষ্ঠান কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে গণতন্ত্র আরও সুদৃঢ় হয় এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী একটি দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতি হিসেবে বিবেচিত হয়। এ কারণে রাষ্ট্র পরিচালনায় বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও কর্তৃত্ব আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, কার্যকর সংসদ, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ এবং বেসরকারি খাতের বিকাশও গণতান্ত্রিক শাসনকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক ভূমিকা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকলে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারসাম্য বজায় থাকে। এতে জনগণের আস্থা বাড়ে, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সহজ হয়।

প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব দেশে বেসামরিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী এবং সাংবিধানিক কাঠামো কার্যকর, সেসব দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানও তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল। তাই বাংলাদেশেও গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভারসাম্য, জবাবদিহি এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষণটি একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত মতামতভিত্তিক মূল্যায়ন। এতে উত্থাপিত বিষয়গুলো গবেষক ও বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি, এগুলো বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিজ নিজ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, আইনের শাসন, মানবাধিকার রক্ষা এবং কার্যকর বেসামরিক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তাদের মতে, এসব উপাদানই একটি স্থিতিশীল, অংশগ্রহণমূলক ও টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!