অনলাইন শনিবার, ০১ আগস্ট, ২০২৬
একজন নারী একদিন আমার লেখায় একটা কমেন্ট করে বসলেন। লিখলেন, আমার স্বামী আমাকে গাড়ি, বাড়ি সব করে দিয়েছেন। ব্যাংকেও টাকা রেখেছেন যাতে আমি ঠিকভাবে শেষ সময়ে চলতে পারি।
আমি কমেন্টের উত্তর দিলাম, এই ব্যাপারে আমি তো কিছু লিখিনি। কিন্তু মনে হচ্ছে আপনি টাকা পয়সায় সুখ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। আপনার স্বামী আপনাকে ভালোবাসে তো?
জানি, এই প্রশ্নের কোনো যুক্তি নেই, সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাও কমেন্ট পড়ে লিখতে হলো।
উনি আমাকে এমন একটা মন্তব্য করে বসলেন, যেটা আমি পড়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। উনি আমার বন্ধু লিস্টে নেই!
যেহেতু আমার পোস্ট পাবলিকে আছে তাই তিনি কমেন্ট করতেই পারেন। উনাকে আর কিছু লিখলাম না।
সন্ধ্যায় চা পান করতে করতে হঠাৎ কথাটা মনে পড়লো।
ভাবছিলাম, জীবনে কত কি দেখলাম। কখনো মাথায় আসেনি বাড়ি, গাড়ি, জমানো টাকায় সুখ।
এসব তো চোখের দেখা। কিন্তু আমার কাছে সুখ শব্দটা একটু ভিন্ন।
আমার সাহায্যকারীকে রোজ বকা দিই, সে রোজই কাজ করতে দেরি করে আসে। কোনোদিন বিশ মিনিট, কোনোদিন আধঘন্টা আবার কোনোদিন একঘন্টা।
এদিকে আমার খুব ছুটাছুটি করতে হয় সকালবেলা।
একদিন বকা দিয়ে বললাম, কাল থেকে আর আসিস না।
সে বললো, দিদি আমার জামাইয়ের
জন্য আমার দেরি হয়। আমি তাকে জিজ্ঞেস করতে পারিনি, কেন দেরি হয়! তারপর সে নিজেই বললো, তার স্বামী তাকে নিজে পাশে বসিয়ে, ভাত খাইয়ে, তারপর পাঠায়। শুনে মনে হলো সেখানেই সুখ।
সিঁড়ি মোছার বকুল দশটায় এসে কলিংবেল টিপে বললো ময়লা দিতে। আমি জিজ্ঞেস করলাম সাতটায় আসো আজ এতো দেরি কেন? সে বললো বাইরে অনেক বৃষ্টি, রাস্তায় জল জমেছে। তাই তার স্বামী তাকে কোনোভাবেই একা আসতে দিচ্ছে না, কাজে যাবার সময় রিক্সা করে নামিয়ে দিয়েছে। আমার মনেহয় সেখানেই সুখ।
আমার পরিচিত, খুব কাছের একজন। সে বলে তার স্বামী তাকে জিজ্ঞেস না করে কোনো কাজ করে না।
সকালে ঘুম থেকে উঠে চা, নাস্তা বানানো তার স্বামীর কাজ।
সে ঘুম থেকে উঠে তৈরি করা চা, নাস্তা খেয়ে তারপর ঘরের কাজ শুরু করে। আমার মনেহয় সেখানেই সুখ।
একদিন রাস্তার এক চা বিক্রেতা বললেন, সপ্তাহে দুইদিন তিনি চা বিক্রি করেন না। বৌ বাচ্চা নিয়ে বাইরে ঘুরতে যান, আমার মনেহয় সেখানেই সুখ।
সুখের জন্য বেশি টাকা-পয়সা লাগে না। মন-মানসিকতা লাগে, ইচ্ছা লাগে। আর ভালো রাখার জন্য একজন ভালো মনের মানুষ লাগে।
যা এখনকার দিনে খুব কমই শোনা যায়।
ভালো থাকুক পরিচিতজন, শিমুল, বকুল আর চা বিক্রেতা। তাদের থেকে দেখে অন্যরাও শিখুক, জীবন খুব সুন্দর!
চাইলে সুন্দর বানানো যায়। 

Gouri Sarbabidya's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
নিউজ ডেস্ক