তানিয়া আক্তার ফারজানা
বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরনে বড় পরিবর্তনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO)। সংস্থাটি জানিয়েছে, দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো (El Niño) চলতি বছরের আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বৈশ্বিক জলবায়ুর ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা, কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যা, আবার কোথাও খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত WMO-এর বৈশ্বিক মৌসুমি জলবায়ু হালনাগাদে বলা হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে এবং আগস্ট-অক্টোবর সময়ে এটি একটি শক্তিশালী এল নিনো রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে ভারত মহাসাগরে পজিটিভ ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে, যা এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র করতে পারে।
এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “এল নিনো এখন আর আমাদের দরজায় নয়, এটি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েছে এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।” তিনি বলেন, এল নিনো এমন এক সময়ে শক্তিশালী হচ্ছে, যখন বিশ্ব ইতোমধ্যেই রেকর্ড তাপপ্রবাহ, দাবানল এবং অস্বাভাবিক উষ্ণ সমুদ্রের মুখোমুখি। জীবাশ্ম জ্বালানির (কয়লা, তেল ও গ্যাস) ব্যবহার জলবায়ু সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে উল্লেখ করে তিনি মানুষ ও পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকার কিছু অঞ্চল, দক্ষিণ ইউরোপ, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যদিকে ভারতীয় উপমহাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর ইউরোপের কিছু অংশে বৃষ্টিপাত কমে গিয়ে খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে। WMO-World Meteorological Organization (ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন) এর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, এল নিনোর পূর্বাভাস সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সময়মতো পরিকল্পনা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি জোরদার করা জরুরি। আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে খাদ্য উৎপাদন, পানির প্রাপ্যতা এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
তানিয়া আক্তার ফারজানা