সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বসতঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা দুই অভিযুক্তকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। বর্তমানে ওই কিশোরী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ১টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।
ওই কিশোরীর চাচা জানায় , ঘটনার রাতে কিশোরীর দাদির চোখের চিকিৎসার জন্য তিনি ও তার মা ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। বাড়িতে কিশোরীর ছোট বোন ও ছোট ভাই সাথে ছিল। রাত ১টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরটি ঘিরে ফেলে। দুর্বিত্তরা প্রথমে দরজা খোলার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তবে ভেতর থেকে দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানালে দুর্বৃত্তরা ঘরের জানালা ভেঙে কিশোরীকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায়।
এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সশস্ত্র দলটি তাদের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে কিশোরীকে তুলে নিয়ে একটি মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুরের পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তিন যুবক তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
ওই এলাকার বাসিন্দাদের সুত্রে জানা যায়, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর কিশোরী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ৩টার দিকে, ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর দুর্বিত্তরা কিশোরীকে বাড়ির উঠনে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
ওই সময় এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে ধাওয়া দিয়ে দুই দুর্বিত্তকে একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করে। পরে গণপিটুরি দিয়ে তাদের সদরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এরা হলেন, হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬)।
ভুক্তভোগীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, শাশুড়ির অপারেশনের জন্য আমি হাসপাতালে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি এসে মেয়ের এই অবস্থা দেখে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। তিনি বলেন, আমার মেয়েকে ঘরের দরজা ভেঙে উঠিয়ে নিয়ে যায়। রাত তিনটার দিকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে যায়। আমি এই ঘটনায় জড়িত সকলের ফাঁসি চাই।
ওই কিশোরীর ছোট বোন জানায়, দুর্বিত্তরা জানালা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে আমার বোনের চুলের মুটি ধরে তাকে টেনে হেচড়ে বের করে নিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) শামছুল আজম বলেন, গণধর্ষণের ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অবিযোগ পেয়েছি।এ ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এরাকাবাসী যে দুইজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে তারা বর্তমানে থানায় পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
মোঃ রোকনুজ্জামান