শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

শ্বাস নিতে যেন ভয়! ঢাকার বাতাসে বাড়ছে দূষণ, ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

তানিয়া আক্তার ফারজানা তানিয়া আক্তার ফারজানা
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৫ am
১০
শ্বাস নিতে যেন ভয়! ঢাকার বাতাসে বাড়ছে দূষণ, ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

তানিয়া আক্তার ফারজানা

রাজধানী ঢাকার বায়ুমান আবারও উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের (IQAir) তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বাতাসের মান ছিল ‘সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে। এ সময় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা AQI স্কোর ছিল ১০২, যা শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর বায়ুদূষণ এখন আর মৌসুমি সমস্যা নয়, এটি বছরের বেশির ভাগ সময়ই নগরবাসীর জন্য একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যানবাহনের কালো ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি, ইটভাটা, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে বাতাসে ক্ষতিকর বস্তুকণার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দূষিত বাতাসে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, ফুসফুসের সংক্রমণ, হৃদরোগ এমনকি স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। শিশুদের ফুসফুসের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বয়স্কদের শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই যাদের আগে থেকেই শ্বাসযন্ত্র বা হৃদ্‌রোগের সমস্যা রয়েছে, তাদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশবিদরা মনে করছেন, বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে অনেক সময় বায়ুমানের কিছুটা উন্নতি হলেও দূষণের মূল উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি হচ্ছে না। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চলমান নির্মাণকাজে ধুলা নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা এবং পুরোনো যানবাহনের ধোঁয়াও দূষণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

বিশেষজ্ঞরা নাগরিকদের জন্য কয়েকটি সতর্কতামূলক পরামর্শ দিয়েছেন। প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান না করা, বাইরে বের হলে মানসম্মত মাস্ক ব্যবহার করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শিশু ও বয়স্কদের দূষিত পরিবেশ থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সরকারকে দূষণের উৎসগুলো শনাক্ত করে কঠোর নজরদারি, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন বৃদ্ধি, নির্মাণকাজে ধুলা নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্পকারখানার নির্গমন কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ওঠানামা করলেও, বায়ুদূষণ যে রাজধানীবাসীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে।

এ ছিল ঢাকার সর্বশেষ বায়ুমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!