শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

জুলাইয়ের শেষ প্রান্তে মুক্তিযুদ্ধ: গেরিলা অভিযানে দিশেহারা পাকিস্তানি বাহিনী

তানিয়া আক্তার ফারজানা তানিয়া আক্তার ফারজানা
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৭ am
১০
জুলাইয়ের শেষ প্রান্তে মুক্তিযুদ্ধ: গেরিলা অভিযানে দিশেহারা পাকিস্তানি বাহিনী

তানিয়া আক্তার ফারজানা

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মুক্তিবাহিনীর গেরিলা অভিযান আরও তীব্র আকার ধারণ করে। সীমান্তবর্তী প্রশিক্ষণ শেষে নতুন নতুন মুক্তিযোদ্ধারা দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে সেতু, রেলপথ, সড়ক, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ধারাবাহিক আঘাত হানতে শুরু করেন। এর ফলে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর রসদ সরবরাহ ও সামরিক চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।

জুলাইয়ের শেষ দিকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধারা একের পর এক গেরিলা অভিযান পরিচালনা করেন। সড়ক ও রেল যোগাযোগে হামলা, সামরিক যানবাহনে অতর্কিত আক্রমণ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতার মাধ্যমে দখলদার বাহিনীর ওপর চাপ আরও বাড়তে থাকে।

মুক্তিযোদ্ধাদের এসব অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন সেক্টরে সংগঠিত যুদ্ধও জোরদার হয়। সেক্টরভিত্তিক কমান্ডারদের নেতৃত্বে পরিকল্পিত আক্রমণের ফলে পাকিস্তানি বাহিনী অনেক এলাকায় প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান নিতে বাধ্য হয়। একই সময়ে সীমান্তবর্তী মুক্তাঞ্চলে নতুন যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সরবরাহ এবং কৌশলগত প্রস্তুতিও অব্যাহত ছিল।

ইতিহাসবিদদের মতে, জুলাই মাসের শেষ দিকটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এ সময় মুক্তিবাহিনী ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে গেরিলা কৌশলে আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর মনোবল দুর্বল করে দেয় এবং দেশের অভ্যন্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করে।

অন্যদিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এসব অভিযানের জবাবে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান, ধরপাকড় ও নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন বৃদ্ধি করে। কিন্তু দমন-পীড়নের মধ্যেও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় সাধারণ মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য, আশ্রয় ও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখেন। জনসমর্থনের এই শক্তিই মুক্তিযুদ্ধকে আরও গতিশীল করে তোলে।

মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ দিকের ধারাবাহিক গেরিলা অভিযান পরবর্তী মাসগুলোতে বৃহত্তর সামরিক সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে। এসব অভিযান আন্তর্জাতিক মহলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সমর্থন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!