তানিয়া আক্তার ফারজানা
প্রাকৃতিক বন, জীববৈচিত্র্য এবং বন্যপ্রাণী রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া বনরক্ষী বা রেঞ্জারদের অবদানকে স্মরণ ও সম্মান জানাতে প্রতি বছর ৩১ জুলাই পালিত হয় বিশ্ব রেঞ্জার দিবস। দিনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক রেঞ্জার ফেডারেশন (International Ranger Federation-IRF) এবং দ্য থিন গ্রিন লাইন ফাউন্ডেশন যৌথভাবে দিবসটির সূচনা করে। এরপর থেকে প্রতিবছর বন সংরক্ষণে কর্মরত রেঞ্জারদের সাহসিকতা, আত্মত্যাগ ও পেশাগত অবদানকে স্বীকৃতি দিতে নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।
বিশ্ব রেঞ্জার দিবসের অন্যতম লক্ষ্য হলো দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো ও আহত রেঞ্জারদের স্মরণ করা এবং বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। বাংলাদেশে সুন্দরবন, চট্টগ্রাম, সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং দেশের বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কর্মরত রেঞ্জাররা প্রতিদিন নানা ঝুঁকি মোকাবিলা করে দায়িত্ব পালন করছেন। অবৈধভাবে বন উজাড়, বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচার, বনভূমিতে অগ্নিকাণ্ড এবং পরিবেশ ধ্বংসের মতো নানা চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাঁরা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে রেঞ্জারদের ভূমিকা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে তাঁদের নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত জনবল, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করাও সমান জরুরি।
দিবসটি উপলক্ষে বন অধিদপ্তর, পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ এবং রেঞ্জারদের সম্মাননা প্রদানের মতো বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বন সংরক্ষণ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় রেঞ্জারদের অবদান তুলে ধরে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এটি সমাজের প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব। রেঞ্জারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রকৃতি সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, সুস্থ বন ও নিরাপদ জীববৈচিত্র্যই একটি টেকসই ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি।
তানিয়া আক্তার ফারজানা