শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

অনুপস্থিত থেকেও ১৫ মাস বেতন তুলেছেন মাদরাসা সুপার, সমবায় সমিতির মামলায় আত্মগোপনে

মোঃ আলমগীর হোসাইন মোঃ আলমগীর হোসাইন
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:০২ pm
অনুপস্থিত থেকেও ১৫ মাস বেতন তুলেছেন মাদরাসা সুপার, সমবায় সমিতির মামলায় আত্মগোপনে

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি:

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার সাঈদ বিন আকবরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও টানা ১৫ মাস বেতন-ভাতা উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে একটি সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্র ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা যায়, সাঈদ বিন আকবর ‘আল আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতি’র পরিচালক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির এবং জেলা ওলামা-মাশায়েখ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সমবায় সমিতির অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা সামনে এলে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামি হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

অভিযোগ রয়েছে, আত্মগোপনে থাকা অবস্থাতেও তিনি কৌশলে টানা প্রায় ১৫ মাস নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করে গেছেন। বর্তমানে তিনি দুই মাসের বিনা বেতনের ছুটিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশাসনিক স্থবিরতা বিরাজ করছে এবং ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম।

মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আজহারুল ইসলাম বলেন, "সুপার দীর্ঘদিন কর্মস্থলে না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।"

বিষয়টি নিয়ে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানতে চাইলে তিনি বলেন, "সুপার সাঈদ বিন আকবর দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তিনি অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে প্রায় ১৫ মাস ছুটি ভোগ করেছেন। এরপর আরও ছয় মাসের বিনা বেতনের ছুটি নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি দুই মাস ধরে বিনা বেতনের ছুটিতে রয়েছেন।"

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ শফিকুল হায়দার জানান, "বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমাদের সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই, আমরা কেবল পরামর্শ দিতে পারি। প্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে বলা হয়েছে, সুপার হয় বিনা বেতনে ছুটির আবেদন করবেন, নয়তো তাঁকে অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য করা হবে। সেক্ষেত্রে তাঁর বেতন-ভাতা বন্ধ থাকবে।"

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সুপার সাঈদ বিন আকবরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানান, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনের কোনো বৈধতা নেই। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!