নরসিংদী মনোহরদী প্রতিনিধি
সমাজে সাংবাদিকতা একটি মহান, দায়িত্বশীল ও জনকল্যাণমূলক পেশা। সত্য, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থ রক্ষা করাই সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল, চাঁদাবাজি, অপপ্রচার, মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং ব্ল্যাকমেইলের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় প্রকৃত সাংবাদিকতার মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অপ-সাংবাদিকতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে গণমাধ্যমের প্রতি আস্থাহীনতা বাড়ছে। যথাযথ তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ পরিবেশন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে শুধু সাধারণ মানুষই বিভ্রান্ত হচ্ছেন না, বরং সৎ, পেশাদার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকরাও তাদের কর্মক্ষেত্রে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাবের মুখোমুখি হচ্ছেন।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের ভাষ্য, অপ-সাংবাদিকতা প্রতিরোধে সাংবাদিকতার নৈতিকতা, পেশাগত মানদণ্ড এবং তথ্য যাচাইয়ের নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা অপরিহার্য। একই সঙ্গে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে কার্যকর সম্পাদকীয় তদারকি জোরদার এবং তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করতে হবে।
সচেতন মহলের অভিমত, স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকাশের পাশাপাশি দায়িত্বশীল, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন নিশ্চিত করা গেলে অপ-সাংবাদিকতার প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে। সাংবাদিক, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে এই অপসংস্কৃতি রোধ করে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা যেমন গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি, তেমনি সেই স্বাধীনতার সঙ্গে জড়িত রয়েছে জবাবদিহিতা, সততা ও পেশাগত নৈতিকতার প্রশ্ন। তাই প্রকৃত সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষা এবং সমাজে একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
মোঃএমরুল ইসলাম