বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

তীব্র দাবদাহে মনোহরদীতে বেপরোয়া লোডশেডিং, নির্ঘুম রাত কাটছে মানুষের

মোঃএমরুল ইসলাম মোঃএমরুল ইসলাম
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:১০ pm
২৬
তীব্র দাবদাহে মনোহরদীতে বেপরোয়া লোডশেডিং, নির্ঘুম রাত কাটছে মানুষের

মোঃএমরুল ইসলাম

নরসিংদী মনোহরদী প্রতিনিধি:

নরসিংদীর মনোহরদীতে তীব্র দাবদাহের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। একদিকে অসহনীয় গরম, অন্যদিকে বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন ‘আসা-যাওয়ায়’ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিনের তুলনায় রাতের বেলায় লোডশেডিং আরও প্রকট আকার ধারণ করায় নির্ঘুম রাত কাটছে সাধারণ মানুষের।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন চলতি এইচএসসি, আলিম ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। তীব্র গরমে শ্রেণিকক্ষও হয়ে উঠছে অস্বস্তিকর। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পাঠদান ও পাঠগ্রহণে মনোযোগ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর এলাকায় তুলনামূলক কিছুটা বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও গ্রামাঞ্চলের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। আবার বিদ্যুৎ এলেও কিছুক্ষণ পরপর চলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্রিজ, টেলিভিশন, ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উপজেলার তারাকান্দি গ্রামের ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম বলেন, “লোডশেডিংয়ের কারণে দোকানপাট অন্ধকারে ডুবে থাকে। বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। আবার চার্জের অভাবে অটোরিকশা কম চলায় যাতায়াতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।”

গ্রাহকরা আরও জানান, নিয়মিত বিদ্যুৎ সেবা না পেলেও মাস শেষে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে একদিকে সেবাবঞ্চিত, অন্যদিকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।

এ বিষয়ে নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (মনোহরদী জোনাল অফিস)-এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী ফযিলত রাব্বি মু'মিনাহ বলেন, “মনোহরদীতে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪৫ মেগাওয়াট। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৭ মেগাওয়াট। প্রতিদিন প্রায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”

এদিকে চলমান দাবদাহের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন মনোহরদীবাসী। তাদের আশা, বিদ্যুতের বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দ্রুত এই দুর্ভোগের অবসান হবে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!