টঙ্গী, গাজীপুর প্রতিনিধি-
তানিয়া আক্তার ফারজানা
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে এলেও দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাব পুরোপুরি কেটে না যাওয়ায় উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, গভীর নিম্নচাপটি ক্রমেই শক্তি হারাচ্ছে। তবে এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল এবং আশপাশের এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এদিকে সাগর উত্তাল থাকায় গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকার ফসলের কিছু ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত আমন ধানের জন্য উপকারী হতে পারে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপকূলীয় জেলাগুলোতে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, নৌযান চলাচল এবং মৎস্য খাতের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকেও সতর্ক অবস্থায় থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় নিম্নচাপটি আরও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তবে এর প্রভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তাই জনসাধারণকে গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি আবহাওয়া বুলেটিন অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে বঙ্গোপসাগরে এ ধরনের নিম্নচাপ স্বাভাবিক ঘটনা হলেও সময়মতো সতর্কতা মেনে চললে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক