কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধিঃ
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বসতবাড়ির জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাকপ্রতিবন্ধী বোনকে কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করার অভিযোগ উঠেছে আপন বড় ভাই, ভাবি ও ভাতিজির বিরুদ্ধে।
শনিবার বিকেলে পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তেবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় ভুক্তভোগীর ছোট ভাই কুমারখালী থানা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন, বড় ভাই আজিজুল হক সুলতান, ভাবি নাহিদা খাতুন ও ভাতিজি সানজিদা সুলতানা রিধি।
আহত বাকপ্রতিবন্ধী তাসলিমা খাতুন (৪০) তেবাড়িয়া গ্রামের মৃত আফতাব উদ্দিনের মেয়ে। বর্তমানে তিনি কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতের মা জানান, তার বড় ছেলে আজিজুল হক সুলতান বসতবাড়ির জমি আগেই বিক্রি করেছেন এবং তিনি তার অন্যান্য ভাই-বোনের জমিতে নিদিষ্ট সময়ের জন্য বসবাস করছিলেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি জমি ছেড়ে না দিলে এই নিয়ে পারিবারিত কলহের সৃষ্টি হয় এবংএ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়। সর্বশেষ সালিশ বৈঠক বসলে সুলতান দুই মাসের মধ্যে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি জায়গা ছাড়েননি।
তিনি আরও জানান, শনিবার তারা এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সুলতান, তার স্ত্রী ও মেয়ে মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাসলিমা খাতুনের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে আহত করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাসলিমা খাতুনকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় আহতের ছোট ভাই আহসান হাবিব সবুজ বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানান তিনি।
অভিযুক্ত বড় ভাই আজিজুল হক সুলতান বলেন, তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ মিথ্যা। তিনি বলেন উল্টা তারাই তার পরিবারের ওপর হামলা চালায়। এসময় তিনি সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টাও করেন।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন জানান, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর ছোট ভাই বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামী করে এজাহার দেন। এঘটনায় মামাল রুজু করা হয়েছে।
উপজেলা প্রতিনিধি