বুরকিনা ফাসোর ইমাম এবং ইসলামিক স্কলারদের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ত্রাওরে। সম্প্রতি দেশটির আলেমদের উদ্দেশে দেয়া এক বক্তব্যে ত্রাওরে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা তার ভাষায় ‘ইসলামের উগ্র ব্যাখ্যা’ প্রচার করবে, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। খবর দ্য নিউ আরবের।
একই সঙ্গে বিদেশি শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে দেশকে অস্থিতিশীল করতে ধর্মকে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন ত্রাওরে। তবে তিনি আশ্বাস দেন, যারা ইসলামের শান্তিপূর্ণ ব্যাখ্যার পক্ষে কথা বলবেন, রাষ্ট্র তাদের সব ধরনের সহায়তা দেবে।
গত মে মাসের শেষের দিকে ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের খসড়ার সমালোচনা করার পর দেশটির অন্যতম প্রধান সুন্নি আলেম ইমাম মোহাম্মদ ইসহাক কিনদোকে গ্রেপ্তার করে কর্তৃপক্ষ। এরপর তার মুক্তির দাবিতে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা একত্রিত হলে বিশৃঙ্খলার অজুহাত দেখিয়ে রাজধানী উয়াগাদুগুর সবচেয়ে বড় সুন্নি মসজিদটি বন্ধ করে দেয়া হয়।
কিনদোর আগে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় একই পরিস্থিতিতে বোবো-দিউলাসো শহর থেকে আরেক ইমাম মাহমুদ বারোকে আটক করা হয়।
সাহেল অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক ডাকারভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান টিমবুকতু ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, কিনদোর সমর্থকদের বিক্ষোভ দমনের পর থেকে এই ইমামের অবস্থানের ব্যাপারে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
টিমবুকতু ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সংঘাত কেবল একটি আইনকেন্দ্রিক বিরোধের চেয়েও গভীর। ২০২২ সালে ক্ষমতা দখলের পর ট্রাওরে সরকার যাদের সমর্থনে রাজনৈতিক বৈধতা পেয়েছিল, সেই প্রভাবশালী আলেমদের সঙ্গে তার সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ এই উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করছে বুরকিনা ফাসো। সম্প্রতি দেশটিতে নিযুক্ত ইসরায়েলের নতুন রাষ্ট্রদূত সাইমন সেরুসি ত্রাওরের কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। কয়েক মাস ধরে তার অনুমোদন ঝুলে থাকার পর অবশেষে এই পদক্ষেপ নেয়া হলো।
বুরকিনা ফাসো, মালি ও নাইজারের সামরিক সরকারগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ‘অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস’-এর সঙ্গে ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ নেয়ার পরপরই বিষয়গুলো সামনে আসছে। সাহেলের এই দেশগুলো ইসরায়েলি নিরাপত্তা প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
নিউজ ডেস্ক