মিজানুর রহমান, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টায় মিরসরাই উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলা পরিষদ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীরুল কাদের, মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলীসহ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, জাতীয় জীবনে ঐক্য, সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের স্বার্থে সব ধরনের বিভেদ, মতপার্থক্য ও সংকীর্ণতা ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, মিরসরাইয়ের মানুষ একই পরিবারের সদস্য। এ অঞ্চলে কোনো গোষ্ঠী বা বিভাজনের স্থান থাকা উচিত নয়। সবাইকে এক ও অভিন্ন হিসেবে বিবেচনা করে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। প্রতিযোগিতা থাকবে, তবে তা যেন কখনো বিরোধ বা বিভেদের কারণ না হয়। বরং শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে হবে।
তারা বলেন, একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ মিরসরাই গড়ে তুলতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। পারস্পরিক আস্থা ও ঐক্যের মধ্য দিয়েই এলাকার সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব।
আলোচনা সভা শেষে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের পরিবেশনায় আয়োজনটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এভাবেই র্যালি, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মিরসরাইয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি শেষ হয়।