শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

কসবায় ছাত্রদলের আনন্দ মিছিলে হামলার অভিযোগ, আহত ৮।

মোঃ উজ্জ্বল মিয়া কসবা উপজেলা প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৬ pm
১০
কসবায় ছাত্রদলের আনন্দ মিছিলে হামলার অভিযোগ, আহত ৮।
আহত ব্যাক্তি ও মিছিলের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের নবগঠিত আংশিক কমিটির আনন্দ মিছিলে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কসবা পৌর সুপার মার্কেটের স্বাধীনতা চত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন—তৈতুয়া গ্রামের মালু খার ছেলে শহিদুল খা, দক্ষিণ কসবা গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে জুয়েল মিয়া, খারপাড়া গ্রামের রাব্বি মিয়া, চরনাল গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে রাশিদুল ইসলাম রাসেল, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো. শামীম মিয়া, শিমুল মিয়া ও রাজু মিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর সিরাজুল হক ইমুকে সভাপতি ও শিমুল মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ্দাম খন্দকারকে করে কসবা উপজেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি এবং এনামুল হক আপেলকে সভাপতি ও জুয়েল আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে কসবা পৌর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রদল। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিত একটি পক্ষ প্রতিবাদ ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিল।

বুধবার নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করেন। উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর ছাত্রদলের সভাপতির নেতৃত্বে মিছিলটি কসবা ডাকবাংলো থেকে শুরু হয়ে পৌরসভার স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় পেছন থেকে পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতা মো. শহিদুল খা, সাদ্দাম হোসেন ও রাজুর নেতৃত্বে মিছিলে হামলা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে ৭ থেকে ৮ জন আহত হন।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার পর জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন নবগঠিত উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিরাজুল হক ইমু ও পৌর ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হক আপেল। সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুশফিকুর রহমানের নির্দেশে তাদের আনন্দ মিছিলে হামলা চালানো হয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজন আহত হয়েছেন ।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক স্বপন বলেন, যারা জেলা ছাত্রদলের কমিটিকে অবৈধ বলে দাবি করে, তারা বিএনপির কর্মী হতে পারে না। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করেই জেলা ছাত্রদল কসবা উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করেছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুশফিকুর রহমান তার অনুসারীদের উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক স্বপনকে মারধরের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁর নিজের কিংবা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীর ওপর হামলা বা আক্রমণের ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার সংসদ সদস্যকে নিতে হবে। পাশাপাশি আনন্দ মিছিলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ও মহাসচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

অন্যদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী এবং নবগঠিত কমিটির কয়েকজন নেতাকর্মীও রয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!