রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ক্রমেই জটিল এক সমীকরণের দিকে যাচ্ছে

নিউজ ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৫ pm
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ক্রমেই জটিল এক সমীকরণের দিকে যাচ্ছে

অনলাইন ২৫ জুলাই ২০২৬ জূলাই

অনলাইন ২৫ জুলাই ২০২৬ জূলাই
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ক্রমেই জটিল এক সমীকরণের দিকে যাচ্ছে।।
ঈশ্বরের পাঁচটি রত্নভাণ্ডারের একটা হচ্ছে ধর্মগ্রন্থ ( Hollybooks ) . বাংলাদেশের রাজনীতির হোলি বুকস হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। বাংলাদেশের মানুষের কাছে মুক্তির ত্রাণকর্তা হিসেবে বারবার বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ বিভিন্ন রূপে এসেছে ‌। কিন্তু এইবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন । এমন ভিন্ন পরিবেশে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং রাষ্ট্রপতিকে বিএনপি ও জামায়াতের পদত্যাগ করানো সহ পাঁচটি বিষয় খুব আলোচিত হচ্ছে।
শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণায় বিএনপি ও জামায়াত ভীত হয়ে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে নিজেদের পছন্দমতো রাষ্ট্রপতি বসাবে এটাই স্বাভাবিক।এই নিয়ে শেখ হাসিনা একটুও বিচলিত নন। শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণায় বিএনপি ও জামায়াত কতটা ভয় পেয়েছে এটা তার প্রাথমিক একটা আলামত মাত্র।১ বছর ৯ মাস রাষ্ট্রপতির মেয়াদ থাকতে তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত বিএনপি ও জামায়াতের ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার একটা নমুনা মাত্র। বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ ( ৩ ) অনুচ্ছেদ এর অপব্যবহার করে ভয় দেখিয়ে একজন রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের নামে ক্ষমতাচ্যুত করা হলো। এক্ষেত্রে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মধ্যে অনন্য সরকার প্রধান।
➡️ শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সাল থেকে এই পর্যন্ত ২১ বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সরকারের ২১ বছরে একজন রাষ্ট্রপতিকেও তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অপসারণ/ পদত্যাগ করানো হয়েছে, এমন একটি উদাহরণ পৃথিবীর কেউ দিতে পারবে না।
🔴 শেখ হাসিনার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতের।১৯৭৫ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে ১৯৮১সাল পর্যন্ত মাত্র ৬ বছরে ৩ জন রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করেছেন।
▪️ বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ক্ষমতায় রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে জোরপূর্বক অপসারণ ও পদত্যাগে বাধ্য করে রাস্তায় রাস্তায় পিটিয়েছে ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা।২০০১ সালে বিএনপি ও জামায়াত সরকার ক্ষমতায় একজন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সহ মাত্র পাঁচ বছরে বিএনপি ও জামায়াত ৩ জন রাষ্ট্রপতি পাল্টেছে। অর্থাৎ জোরপূর্বক তাদের পদত্যাগে বাধ্য করানো হয়েছে।
▪️২০২৬ সালে বিএনপি ও জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছে এখনও ছয় মাস হয়নি। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনকে তারা পদত্যাগে বাধ্য করেছে।এসব হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতের স্বৈরাচারী শাসনের ছোট্ট একটা নমুনা।
🔴 ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে নিয়োগ দেওয়ার পর শেখ হাসিনা ২০২৪ সালে আবার প্রধানমন্ত্রী হলে সেই সময় থেকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্ক অতোটা সুখকর ছিলো না। আগস্টের প্রথম দিকে শেখ হাসিনা বুঝে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি চুপ্পু বিএনপি ও জামায়াতের সাথে গোপনে হাত মিলিয়েছে। এরপরও শেখ হাসিনা সংবিধান লঙ্ঘন অথবা ৫৩( ৩) অনুচ্ছেদের দোহাই দিয়ে চুপ্পুকে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করেননি। এই চুপ্পুকে পদত্যাগ করিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি দিলে শেখ হাসিনা আজকেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকতেন। রাজনীতিতে এটাই শেখ হাসিনা সততা , দেশপ্রেম ও বাংলাদেশের সংবিধানের প্রতি অবিচল আস্থার অন্যতম বড় উদাহরণ।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ কারাজীবণ কাটিয়েও শেখ হাসিনা বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তা সারাবিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। এজন্য বিশ্ববিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন শেখ হাসিনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে যথার্থ বলেছে ,
" She remains one of the last leaders of her generation to stand firm against extremism and great - power pressure - a reminder that's strength , in the global South , often comes at a cost ."
অর্থাৎ " তিনি তাঁর প্রজন্মের সেই শেষ সারির নেতাদের একজন যিনি চরমপন্থা ও পরাশক্তিদের চাপের বিরুদ্ধেও দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন - এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, গ্লোবাল সাউথ শক্তির প্রায়শই একটা মূল্য দিতে হয়।"
দীর্ঘ ১৬ বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন কালে শেখ হাসিনা একজন আন্তর্জাতিক রাজনীতিবীদে পরিণত হয়েছিলেন । এই দীর্ঘ ১৬ বছরে শেখ হাসিনা পৃথিবীর কোন পরাশক্তিধর দেশের কাছে মাথানত করেননি, এবং বাংলাদেশকেও মাথানত করতে দেননি। তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শুধু " এশিয়ার রাইজিং টাইগার " বানাননি , বরং শেখ হাসিনা পরিণত হয়েছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী ও মানবিক প্রধানমন্ত্রী। তাই বিশ্ব পরাশক্তিদের দেশ আমেরিকার কাছে গ্লোবাল সাউথে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে মূল্য দিতে হয়েছে।
শেখ হাসিনা শুধু দশ লক্ষ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেননি , তিনি বাংলাদেশের উজ্জ্বল এক ভবিষ্যৎ তৈরি করে দিয়ে গেছেন। তার ফরেন পলিসির প্রশংসা খোদ শত্ররাষ্ট্র আমেরিকা ও পাকিস্তানের সরকার পর্যন্ত করতে বাধ্য হয়েছে।
শেখ হাসিনা আগষ্ট মাসে আলেকজান্ডার বুসেফেলাসকে একটি ছোট দায়িত্ব দিতে চান। এজন্য তিনি আগামী প্রজন্মের নেতা ও নেতৃত্ব দুটোই তৈরি করতে চান।
ঈশ্বরের পাঁচটি রত্নভাণ্ডারের আরেকটি রত্নভাণ্ডার হচ্ছে শস্য। শেখ হাসিনার রত্নভাণ্ডার হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। যেমন চাষ তেমনি ফল। শেখ হাসিনা গত দুই বছরে এই বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছেন । তাই তার এই মুহূর্তে " বরফ এর পাঁচটি রত্ন" সম্পর্কে জানতে হবে। আগামী পাঁচ মাসে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। এই গুপ্ত রহস্য " আলেকজান্ডার বুসেফেলাস ও শেখ হাসিনার মধ্য সীমাবদ্ধ থাকুক।।
রহস্য একদিনে জেনে ফেললে হবে না। পাকিস্তান জিন্দাবাদকে করাচীর ভিক্ষার থালা ধরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলবে। পাকিস্তানের শেহবাজ শরীফের গদির সাথে তারেক রহমানের গদির খুঁটিও নড়বড়ে হতে থাকবে।তাই সত্যিকারের উপলব্ধি ও জ্ঞানের জন্য আলেকজান্ডার বুসেফেলাস এর ধারাবাহিক " আগষ্ট প্রতিবেদন " এর উপর চোখ রাখুন।।
"দেখা হবে বন্ধু, বিজয়ের মিছিলে।"
Shahidullah Osmani's Post
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল  কতৃপক্ষ দায়ী নন।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!