সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

​ট্রেনে পরিচয় ও ধর্ষণের পর হত্যা: যুবকের মৃত্যুদণ্ড

নিতিশ চন্দ্র বর্মন
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০২ pm
২
​ট্রেনে পরিচয় ও ধর্ষণের পর হত্যা: যুবকের মৃত্যুদণ্ড

​ট্রেনে পরিচয় ও ধর্ষণের পর হত্যা: যুবকের মৃত্যুদণ্ড

নিতিশ চন্দ্র বর্মন

​পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

​পঞ্চগড়ে ট্রেনে পরিচয়ের পর এক নারীকে সুপারি বাগানে নিয়ে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৬) নামের এক যুবককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত।​সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসাইন মোহাম্মদ ফজলুল বারী এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রিফাত বিন সাজ্জাদ জেলার বোদা উপজেলার মাঝগ্রাম এলাকার আক্তার হোসেনের ছেলে।​মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ভোরে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার কিসমত রেলস্টেশনের অদূরে রেললাইনের পাশ থেকে এক অজ্ঞাত নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় পুলিশ ধারণা করে, তাকে হত্যার পর মরদেহ রেললাইনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যু মামলা হলেও রহস্য উদঘাটনে হিমশিম খায় পুলিশ। পরে ঠাকুরগাঁয়ের একটি পরিবার নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে দাফন সম্পন্ন করে। ​ঘটনার প্রায় দুই মাস পর, অর্থাৎ ৮ মার্চ রাতে কিসমত এলাকায় ইজিবাইক চুরির সময় স্থানীয়রা রিফাত বিন সাজ্জাদকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ সময় তার মোবাইল ফোনে ওই অজ্ঞাত নারীর একটি ভিডিও দেখতে পেয়ে পুলিশ তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেয়। ​পুলিশ জানায়, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে দিনাজপুর থেকে ‘একতা এক্সপ্রেসে’ পঞ্চগড়ে ফেরার পথে ট্রেনে ওই নারীর সঙ্গে রিফাতের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে ফুসলিয়ে তাকে কিসমত রেলস্টেশনে নামায় সাজ্জাদ। পরে তাকে প্রথমে একটি ভাঙা ঘরে এবং পরবর্তীতে সুপারি বাগানে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। ​ধর্ষণের পর ওই নারী সাজ্জাদের কাছে মোবাইল ও টাকা দাবি করলে তা দিতে অস্বীকৃত জানায়। এতে ওই নারী তাকে গালাগালি করলে ক্ষিপ্ত হয়ে সাজ্জাদ তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। এরপর একটি চাকু এনে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত করে এবং ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মরদেহ রেললাইনের ওপর ফেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আটোয়ারী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় দিলেন।

​আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) খলিলুর রহমান বলেন, মামলার সমস্ত তথ্য, প্রমাণ ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এই রায় দিয়েছেন। এই রায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!