নারায়ণগঞ্জ থেকে ঘোড়াশাল পর্যন্ত শতকোটি টাকার নদীবন্দর ইজারা নিয়ে প্রশ্ন, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে ঢাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের জড়ো করার অভিযোগ
রাজধানীর ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ও সদ্য ঘোষিত ৬৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান পলিন এবং তাঁর ম্যানেজার শাহিনের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান বিএনপি সরকারের সময় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা পলিন ও তাঁর ম্যানেজার শাহিন নারায়ণগঞ্জ থেকে ঘোড়াশাল পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল নদীবন্দরের ইজারা কোনো ধরনের টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই গ্রহণ করেন। বিআইডব্লিউটিএর এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কিছু ব্যক্তির সহযোগিতায় শতকোটি টাকার এই কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে নদীবন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই নদীবন্দরকে কেন্দ্র করে পলিন ও তাঁর ম্যানেজার শাহিনের বছরে প্রায় শতকোটি টাকা আয়ের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এই আয়ের অর্থ ব্যবহার করে ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার ঘোষণা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও খুলনা থেকে বাছাই করা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের ঢাকায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আর এসব কর্মকাণ্ডের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন পলিনের ম্যানেজার শাহিন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডেমরার রানীমহল এলাকায় পলিনের বাসভবনকে কেন্দ্র করে আশপাশে প্রায় শতকোটি টাকার সম্পদ থাকার অভিযোগ রয়েছে। সাবেক রানীমহল সিনেমা হলের আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে সরেজমিনে ঘুরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পলাতক ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করছেন পলিনের ম্যানেজার শাহিন।
গত ৫ আগস্টের পর পলিন দুবাইয়ে পালিয়ে গেলেও তাঁর হয়ে ম্যানেজার শাহিন বিআইডব্লিউটিএ-সংশ্লিষ্ট আয়ের অর্থ ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ঝটিকা মিছিল এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নদীবন্দরের ভাসমান জেটিতে ছাত্রলীগ-যুবলীগের অবস্থানের অভিযোগ
ডেমরার নদীবন্দরে এমএইচ ইন্টারন্যাশনালের নিয়ন্ত্রণাধীন বিআইডব্লিউটিএর ভাসমান জেটিতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ নেতা পলিনের নির্দেশে তাঁর ম্যানেজার শাহিনের তত্ত্বাবধানে ডিসেম্বরের সম্ভাব্য নাশকতার উদ্দেশ্যে ককটেল ও বোমা তৈরির উপকরণ এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরদের শাহিনের বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য যাচাই এখনো প্রয়োজন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকার সময়ও কীভাবে ৬৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান পলিনের নিয়ন্ত্রণাধীন এমএইচ মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি নদীবন্দরের এত বড় অঙ্কের কাজ বিনা টেন্ডারে পেল, তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ রয়েছে।
তাঁদের অভিযোগ, নদীবন্দর থেকে অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে সরকারের বিরুদ্ধে নাশকতার উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের ডেমরায় আনা হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে তাঁরা অবিলম্বে পলিনের ম্যানেজার শাহিনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে কথিত নাশকতার পরিকল্পনা, অর্থের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যথাযথ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে নভেম্বর-ডিসেম্বরে ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটতে পারে। এমনকি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে পলিনের ম্যানেজার শাহিনের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তাঁর ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।