মোঃ ফরিদ হোসেন
গাজীপুর প্রতিনিধি
পাগাড়-আলেরটেক এলাকায় পুলিশের অভিযান, জব্দ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ও যন্ত্রপাতি
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে একটি আবাসিক বাড়িতে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ। এ ঘটনায় নাজমুল ইসলাম বাপ্পি (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় ওই বাড়ি থেকে ইয়াবা তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক উপাদান জব্দ করা হয়েছে।
গত শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর পাগাড়-আলেরটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের এ অভিযানের পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাজমুল ইসলাম বাপ্পির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য পেয়ে কয়েক দিন ধরে তার বাড়ির ওপর নজরদারি করছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে তথ্যের সত্যতা যাচাই করে শুক্রবার দিবাগত রাতে ওই বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে বাড়ির ভেতরে ইয়াবা তৈরির সরঞ্জাম ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান পাওয়া যায়। এ সময় নাজমুল ইসলাম বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, জব্দ করা রাসায়নিক উপাদান ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সেখানে বড় পরিসরে ইয়াবা তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। তবে উদ্ধার করা উপাদানগুলোর প্রকৃত ব্যবহার এবং এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল ইসলাম বাপ্পি দাবি করেন, প্রেমের বিরহে নিঃস্ব হয়ে পড়ার পর তিনি ইয়াবা তৈরির কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। পরবর্তী সময়ে ইন্টারনেট, ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ইয়াবা তৈরি শুরু করেন বলে জানান তিনি। তবে তার এ বক্তব্যের সত্যতা ও ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার নাজমুল ইসলাম বাপ্পি ওই এলাকার বাসিন্দা তাইজুল ইসলামের বড় ছেলে। কয়েক বছর আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে স্থানীয়রা জানান। তার বাড়িতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানান, অভিযানে বাড়িটি থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ও ইয়াবা তৈরির কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে বড় পরিসরে ইয়াবা তৈরির পরিকল্পনা চলছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, মাদকের উৎস ও সরবরাহ বন্ধ করতে হলে শুধু মাদকসেবী নয়, মাদক উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি।
টঙ্গীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় এ ধরনের অবৈধ কারখানার সন্ধান পাওয়ার ঘটনায় জননিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশের নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।