রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

'আর্টিকেল ৫১' কি সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের রক্ষাকবচ?

নিউজ ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:১০ pm
'আর্টিকেল ৫১' কি সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের রক্ষাকবচ?


অনলাইন ২৫ জুলাই, ২০২৬
 
'আর্টিকেল ৫১' কি সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের রক্ষাকবচ?
‘কিসের বিচার করবে, আর্টিকেল ফিফটি ওয়ানটা পড়ুক’—গণমাধ্যমকে দেওয়া সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের এই বক্তব্য ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ (আর্টিকেল ৫১)। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালীন এই অনুচ্ছেদ তাঁকে যে সাংবিধানিক সুরক্ষা দেয়, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের জন্যে কোনো আদালতের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন। একই সঙ্গে দায়িত্বে থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি (ক্রিমিনাল) মামলা দায়ের বা পরিচালনা করা যায় না। এমনকি দায়িত্ব পালনকালীন তাঁকে গ্রেপ্তার বা আটক করার জন্যে আদালত থেকেও কোনো পরোয়ানা জারি করা যায় না।
সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের মূল বিষয়গুলো হলো—
১. রাষ্ট্রপতি তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের জন্যে কোনো আদালতের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন।
২. দায়িত্বে থাকাকালে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি (ক্রিমিনাল) মামলা দায়ের বা পরিচালনা করা যাবে না।
৩. দায়িত্বে থাকাকালে রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তার বা আটক করার জন্যে কোনো আদালত থেকে পরোয়ানা জারি করা যাবে না।
৪. রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত (সিভিল) মামলা করতে হলে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময় আগে লিখিত নোটিশ প্রদান করতে হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদ যেন নির্বিঘ্নে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে উদ্দেশ্যেই সংবিধানে এই দায়মুক্তির বিধান রাখা হয়েছে। তবে এই সুরক্ষা মূলত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের জন্যে প্রযোজ্য।
দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা আইনি প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, তার নিষ্পত্তি হবে সংশ্লিষ্ট আইন, সংবিধানের অন্যান্য বিধান এবং আদালতের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে।
তবে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে দায়িত্ব-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির জন্যে স্থায়ী বা সর্বাত্মক দায়মুক্তির কোনো স্পষ্ট বিধান নেই। ফলে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে অভিযোগের প্রকৃতি, প্রযোজ্য আইন এবং আদালতের ব্যাখ্যার ওপর।
এদিকে "আমি সংবিধান রক্ষা করেছি"- বলে জানিয়েছেন সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, আমি কোনো অপরাধী নই। রাষ্ট্রপতি হিসেবে মাথা উঁচু করে কাজ করেছি। ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট করছি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর সংবাদ মাধ্যমকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘অসুস্থতাই মেইন। সেটাই তো সত্য। বাট নানান রকম মিডিয়াতে কথা হচ্ছে। এগুলো অপতথ্য। সম্পূর্ণরূপে বেসলেস ক্রিয়েটেড কল্পনাপ্রসূত। নিজের মনে যা চাইলো, মনের মাধুরী মিশিয়ে লিখে দিল, ব্যাস। সেটাকে নিয়ে সকলেই টানাটানি শুরু করে দিলাম। কোন ফোনঠোন আসে নাই। এগুলো বাজে কথা।’
বঙ্গভবনে থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনবিধান আছে এক মাস থাকার। সেটা তো কোনো কথা না। এজ-সুন-এজ পসিবল আমি চলে যাব বাসায়। আমি গুলশানের বাসায় উঠবো। ওটাই তো বাসা।
সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি কোনো অপরাধী নই। রাষ্ট্রপতি হিসেবে মাথা উঁচু করে কাজ করেছি। ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট করছি ২৪ এর ৫ এর আগস্টের পরে। আমি তো নিজেকে প্রাউড ফিল করি। যে আমি একটা ক্রাইসিস থেকে আমি কনস্টিটিউশনটাকে ধরে রাখছি। এবং সেভাবে একটা গভমেন্টও ফর্ম করে দিছি আমি। সেই গভমেন্ট রাষ্ট্রপতি ফর্ম করছে, সাংবিধানিকভাবে এটা শুধু রাষ্ট্রপতিরই ক্ষমতা। সেইভাবে আমি ইন্টারিম গভর্মেন্ট করে দিলাম। ইন্টারিম গভমেন্ট চালিয়ে গেল, ইলেকশন হলো এবং ইলেক্টেড গভমেন্ট এখন দেশ চালাচ্ছে। আমি বলতে গেলে আমারই কৃতিত্ব।
পদত্যাগের পরেও যেসব সুযোগ-সুবিধা পাবেন সাহাবুদ্দিন - শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে পদত্যাগ করেন তিনি। তবে পদত্যাগ করলেও আমৃত্যু বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন সদ্য সাবেক এ রাষ্ট্রপতি।
দেশের প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে মেয়াদ শেষ করেছেন কিংবা কমপক্ষে ছয় মাস দায়িত্ব পালন করেছেন- এমন ব্যক্তি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রতি মাসে সর্বশেষ যে বেতন পেতেন, তার ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক অবসরভাতা পাবেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।
দি প্রেসিডেন্টস (রেমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫ (মে ২০১৬ পর্যন্ত সংশোধিত) এ রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা ছাড়াও বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধার কথা উল্লেখ রয়েছে। আইন অনুযায়ী, সাবেক এ রাষ্ট্রপতি একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেনডেন্ট পাবেন। দাপ্তরিক ব্যয়ও পাবেন। যার মোট বাৎসরিক পরিমাণ সরকার নির্ধারণ করবে।
পাশাপাশি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্যে বিনামূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহার, আবাসস্থলে একটি টেলিফোন সংযোগ পাবেন এবং সরকার নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত এর বিল পরিশোধ থেকে অব্যাহতি পাবেন।
এছাড়া একজন মন্ত্রীর প্রাপ্য চিকিৎসা সুবিধার সমপরিমাণ চিকিৎসা সুবিধাদি, একটি কূটনৈতিক পাসপোর্টও পাবেন তিনি। আর দেশের ভেতর ভ্রমণকালে সরকারি সার্কিট হাউজ বা রেস্ট হাউজে বিনা ভাড়ায় অবস্থানের
Fakhrul Alam Aopu's Post
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!