সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

বরমী ভূমি অফিসে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ: দালাল চক্রের কাছে জিম্মি সেবাগ্রহীতারা

মোঃ ফরিদ হোসেন
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৩ pm
৭
বরমী ভূমি অফিসে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ: দালাল চক্রের কাছে জিম্মি সেবাগ্রহীতারা

গাজীপুর প্রতিনিধি : মোঃ ফরিদ হোসেন

জমির খাজনা দিতে কিংবা নামজারি বা খারিজের কাজ সম্পন্ন করতে সরকারি ভূমি অফিসে আসেন সাধারণ মানুষ। প্রত্যাশা থাকে, নির্ধারিত ফি দিয়ে সহজেই মিলবে কাঙ্ক্ষিত সেবা। কিন্তু সেই সেবা পেতেই যদি গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা, পোহাতে হয় নানা ধরনের হয়রানি, এমনকি মামলার ভয়ও দেখানো হয়—তাহলে সাধারণ মানুষ প্রতিকার চাইবে কোথায়?

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ঘিরে উঠেছে এমনই একাধিক গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের দাবি, খারিজ থেকে শুরু করে জমির খাজনা পরিশোধ—বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে তাঁদের অতিরিক্ত অর্থ দাবি, হয়রানি ও দালালনির্ভরতার মুখে পড়তে হচ্ছে। অভিযোগের তীর ভূমি অফিসের কিছু কর্মচারী এবং বাইরে সক্রিয় একটি কথিত দালাল চক্রের দিকে।

খারিজের নামে অতিরিক্ত টাকা দাবির অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বরমী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এক দাগের জমি খারিজ করতে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়। জমির দাগের সংখ্যা দুই বা তার বেশি হলে সেই অঙ্ক বেড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় পৌঁছায় বলে দাবি তাঁদের।

এমনকি জমির কাগজপত্রে সামান্য জটিলতা থাকলেও তা নিয়ে সেবাগ্রহীতাদের চাপে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কখনো নথিপত্রের ত্রুটির কথা বলে, আবার কখনো মামলার আশঙ্কা দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

একটি সাধারণ নামজারির কাজকে কেন্দ্র করে মামলার ভয় দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।

অফিসের ভেতরে ওমেদার ফারুক, বাইরে ‘বিসমিল্লাহ কম্পিউটার’—কীসের এই যোগসূত্র?

অভিযোগের সবচেয়ে আলোচিত অংশটি হলো, ভূমি অফিসের ভেতরে ও বাইরে কথিত অর্থ লেনদেনের পৃথক ব্যবস্থা থাকার দাবি।

স্থানীয় অভিযোগ অনুযায়ী, বরমী ভূমি অফিসের ভেতরে ওমেদার ফারুক নামে এক ব্যক্তিকে ঘিরে অবৈধ লেনদেনের এই অভিযোগ উঠেছে। দাবি করা হচ্ছে, ওমেদার ফারুকের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ১০ হাজার টাকা জমা হওয়ার কথা থাকলেও এক হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে খাজনার হিসাব কমিয়ে ১০০ টাকা দেখিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা।

অন্যদিকে, অফিসের বাইরে বরমী কলেজ গেটসংলগ্ন ‘বিসমিল্লাহ কম্পিউটার’ দোকানকে ঘিরেও উঠেছে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, ভূমিসেবা নিতে আসা কিছু মানুষকে ওই দোকানে পাঠানো হয় এবং সেখানে দরদামের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ নির্ধারণ করূ এই ওমেদার ফারুক।

অভিযোগে বরমী ভূমি অফিস সহায়ক রফিকের নামও এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধে দোকানকেন্দ্রিক কথিত লেনদেনের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

দালালনির্ভর সেবা, বাড়ছে জনভোগান্তি

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি অফিসের কিছু কর্মচারী/ওমেদার এবং বাইরের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে যোগসাজশ থাকলে সাধারণ মানুষের পক্ষে সরাসরি সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে নির্ধারিত সরকারি ফি সম্পর্কে অস্পষ্টতা তৈরি হয়, বাড়ে হয়রানি এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকি।

ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন—সরকারি ভূমিসেবার জন্য নির্ধারিত ফি ও প্রক্রিয়া থাকার পরও কেন অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠবে? কেন একজন সাধারণ নাগরিককে নিজের জমির বৈধ কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে দালালের দ্বারস্থ হতে হবে? আর এসব অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কে?

তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি

বরমী ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁদের মতে, খাজনা আদায়ের হিসাব, নামজারির নথি, সরকারি রসিদ, সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

একই সঙ্গে অভিযোগে নাম আসা ওমেদার ফারুক ও অফিস সহায়ক রফিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য নেওয়া এবং ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা প্রকাশ করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অতীব আবশ্যক বলে মনে করে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

ভূমি অফিস জনগণের সেবার জায়গা—কোনো ব্যক্তি বা কথিত সিন্ডিকেটের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে থাকার জায়গা নয়। তাই বরমী ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হবে, প্রকৃত দোষীরা জবাবদিহির আওতায় আসবে এবং সরকারি ভূমিসেবা হবে স্বচ্ছ, হয়রানিমুক্ত

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!