এসকে জামান বিশেষ প্রতিবেদক।।
খুলনার বহুল আলোচিত এক্সিম ব্যাংকের কর্মকর্তা পারভীন সুলতানা ও তার বাবা ইলিয়াস চৌধুরী হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ ঘটনায় দায়ের করা দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের সাজা পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিচারপতি বিশ্বদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানি শেষে বহুল প্রতীক্ষিত এ রায় ঘোষণা করেন।যাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল : হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে নিম্নোক্ত পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করেছেন—তারা হলেন :
মো. লিটন
সাইফুল ইসলাম পিটিল
আবু সাঈদ
আজিজুর রহমান ওরফে পলাশ
শরিফুল আলম
অন্যদিকে, একই ঘটনায় করা দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক”-আইনজীবীদের মতে, এই রায় বহুল আলোচিত এ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। হাইকোর্ট হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নিম্ন আদালতের রায় পর্যালোচনা করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দেন। তবে ধর্ষণ মামলায় শাস্তির মাত্রা পুনর্বিবেচনা করে সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন নির্ধারণ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের প্রত্যাশা : দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর হাইকোর্টের এ রায়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশা, বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং ন্যায়বিচার পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
জনমনে আলোড়ন : খুলনায় সংঘটিত এই নৃশংস বাবা-মেয়ে হত্যা দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।আইনশৃঙ্খলা, নারীর নিরাপত্তা এবং বিচারপ্রাপ্তি নিয়ে জনমনে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ শুনানির পর হাইকোর্টের এ রায়কে অনেকেই নৃশংস অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন।এই রায় আবারও প্রমাণ করল যে, জঘন্য হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কঠোর অবস্থান নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে ধর্ষণ মামলায় শাস্তি পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে উচ্চ আদালত আইনের বিধান ও প্রমাণের মানদণ্ড অনুযায়ী স্বাধীন বিচারিক বিবেচনার প্রয়োগ করেছেন।এ মামলার পরবর্তী ধাপে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিলের সুযোগ থাকলেও, হাইকোর্টের এই রায় দেশের বহুল আলোচিত অপরাধ মামলাগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক