সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

সখিপুরে জাল ওয়ারিশ সনদে নামজারি করে জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ, ৭ জনের বিরুদ্ধে হয়রানির দাবি

আল আমীন সরদার
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩১ pm
২
সখিপুরে জাল ওয়ারিশ সনদে নামজারি করে জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ, ৭ জনের বিরুদ্ধে হয়রানির দাবি

শরীয়তপুরের সখিপুরে জাল ওয়ারিশ সনদ ব্যবহার করে জমির নামজারি (মিউটেশন) করিয়ে অন্যের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ গাজীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমির প্রকৃত ওয়ারিশদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুরের সখিপুরের মাধু সরকার কান্দি এলাকার সখিপুর মৌজায় গোল সাহেরার বিআরএস ৩৩৪২ নম্বর খতিয়ানের ৩০৮৭, ৩০৯২, ৩৩১৮, ৩০৯১, ৪৭৯২ ও ৪৭৯৩ নম্বর দাগে মোট ৬৩ শতাংশ ৮৬ অযুতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমি জাল ওয়ারিশ সনদ ব্যবহার করে নামজারি করার মাধ্যমে দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জমির দাবিদাররা।

অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তারা হলেন—মোহাম্মদ গাজী, ফারুক গাজী, নবীর হোসেন গাজী, তাছলিমা বেগম, রাশিদা বেগম ও জাহানারা বেগমসহ সাতজন।

ভুক্তভোগী গোল সাহেরার ছেলে মো. আলী মিঝি বলেন, “আমার মা গোল সাহেরা ২০০১ সালে মারা যান। এরপর আমি ও আমার তিন বোন ফকিরুন্নেছা, (মৃত) ফাতেমা বেগমের ওয়ারিশ ও শরীয়ত নেছা শান্তিপূর্ণভাবে জমিটি ভোগদখল করে আসছি। এর মধ্যে মৃত আবদুর রহমান গাজীর ওয়ারিশরা জাল ওয়ারিশ সনদ দিয়ে নামজারি করিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছেন এবং আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন।”

তিনি আরও বলেন, “নামজারি বাতিলের জন্য আবেদন করলে সখিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. জুয়েল হোসেন ঢালী সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্তের পর সংশ্লিষ্ট নামজারি বাতিল করা হয়েছে।

ফরহাদ আলমের অভিযোগ, জাল ওয়ারিশ সনদের বিষয়ে সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাচ্চু সরকার জীবন নিজের ভুল স্বীকার করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। স্থানীয় মুরুব্বিদের নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠকেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এরপরও জমিতে ঘর নির্মাণ করতে গেলে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফরহাদ আলম আরও বলেন, “আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা এ হয়রানি থেকে মুক্তি চাই।”

এ বিষয়ে সখিপুর ‘ক’ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. জুয়েল হোসেন ঢালী বলেন, অভিযোগকারীরা রেকর্ডীয় মালিক এবং জমিটি তাঁদের ভোগদখলে রয়েছে। সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক গোল সাহেরার নামে প্রদত্ত দুটি ওয়ারিশ সনদ পর্যালোচনা করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী,..... ৩২৩৩ নম্বর সনদে একমাত্র ওয়ারিশ হিসেবে ইছব আলী গাজীর নাম পাওয়া যায়। অন্যদিকে,..... ২৪৫৯ নম্বর সনদে হাসমত আলী গাজী ও আবদুর রহমান গাজীর নাম উল্লেখ রয়েছে।

তিনি জানান, স্থানীয়দের সঙ্গে তথ্য পর্যালোচনা করে সনদ দুটিতে অসংগতি পাওয়া যায় এবং তাঁর মতে, সনদ দুটি জাল। গোল সাহেরার ছেলেদের সঙ্গে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সম্পর্ক নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ফারুক গাজী বলেন, “তাঁদের অভিযোগ মিথ্যা। গোল সাহেরা আমার বড় মা। আমরা এ সম্পত্তির ওয়ারিশ। অভিযোগকারীদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে। কাগজপত্রের ভিত্তিতে জমির অধিকার পেলে নেব, না পেলে নেব না।”

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, গোল সাহেরার ওয়ারিশ হিসেবে মো. আলী মিঝি, ফকিরুন্নেছা, (মৃত) ফাতেমা বেগম ও শরীয়ত নেছা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন।

সখিপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাচ্চু সরকার জীবন বলেন, আমি এলাকায় তদন্ত করে ওয়ারিশ সনদে স্বাক্ষর করেছি। যদি সনদ জাল হয় আইনে প্রমানিত হবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!