মোঃ হেলাল উদ্দিন,
পানছড়ি, প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির পানছড়িতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১২ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.রোজ সোমবার দুপুর ২ টার সময় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, পানছড়ি, খাগড়াছড়ির যৌথ আয়োজনে এই প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা নাসরিন। উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার দ্বিপায়ন চাকমা সঞ্চয়লনায়,
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও পানছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ বেলাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউসুফ আলী, পানছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান উচিত মনি চাকমা, পানছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ এম এ বাসার।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় অর্জনে সরকার পরিবারের নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের যুগান্তকারী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। গত ১০ মার্চ ২০২৬ প্রধানমন্ত্রী পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পাইলটিংয়ে ৮টি বিভাগের ৪৪ জেলার ৫৫ উপজেলা ও ৫৭টি সিটি ইউনিটে ১,১২,০৯৪ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ৭১,৮৩১ জনকে কার্ড ও ভাতা প্রদান করা হয়, যার বিপরীতে ৮৬.৬০ কোটি বরাদ্দের মধ্যে ৬৫.৭৩ কোটি ব্যয় হয়।
জুলাই ২০২৬ থেকে মূল কার্যক্রম শুরু হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৪,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যার মধ্যে ১২,৩০০ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে। এ লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ ও ‘খানা তথ্যভাণ্ডার তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদকৃত প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে পরিবারগুলোকে ৫টি কোয়ান্টাইলে ভাগ করা হয়েছে। ৮৬০ বা তার কম স্কোর প্রাপ্ত নারী পরিবার প্রধান ভাতা পাবেন, তবে সকল নারী প্রধানই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।
আজ ১২ অক্টোবর ২০২৬ থেকে দেশব্যাপী খানা তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এজন্য ৬৬,৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬,৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োগ, ট্যাবলেট, মোবাইল সিম কার্ড সংগ্রহ, Network Based Cyber Security, Work Force Management, NOC Room স্থাপনসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ট্যাবলেটের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে সরাসরি অনলাইন ডেটাবেজে ইনপুট দেবেন। ডিসেম্বর ২০২৬ এর মধ্যে ৪.৪৫ কোটি পরিবারের (প্রতি ৫ জন মিলে ১ পরিবার) তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে নতুন ৪০ লক্ষ নারী পরিবার প্রধানকে কার্ড ও ভাতার আওতায় আনা হবে এবং পর্যায়ক্রমে পরবর্তী ০৩ অর্থবছরে সকল যোগ্য নারীকে আনা হবে। প্রদেয় কার্ডটি Dual Chip, QR Code ও NFC সুবিধা সম্বলিত এবং TakaPay পেমেন্ট স্কিমের সাথে সংযুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে উপকারভোগীরা ব্যাংকের ATM বুথ, বিপণি বিতানের POS এবং MFS হতে ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও ফারহানা নাসরিন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। দেশব্যাপী এই জরিপ সফল করতে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তিনি পানছড়ির সকল নাগরিক ও সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
এসময় উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।