প্রতিবেদক: ওয়াহিদ
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে কিশোরগঞ্জ বিভিন্ন স্থানে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে কাঁচা সবজির সরবরাহ তলানিতে ঠেকেছে। এর প্রভাবে পাইকারি ও খুচরা—উভয় বাজারেই সবজির দামে তীব্র ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, বাজারগুলোতে হাতে গোনা কয়েকটি পদ ছাড়া সিংহভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
বাজার চিত্র ও দামের পরিস্থিতি
কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজি কিনতে এসে চোখ কপালে উঠছে ক্রেতাদের। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচ, টমেটো, কাকরোল, বেগুন ও শসার।
কাঁচা মরিচ: গুণমানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায়।
টমেটো: প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০টাকায়।
বেগুন ও করলা: গোল বেগুন ও করলা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে।
শসা ও গাজর: দেশি শসা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং গাজর ১৩০ থেকে ১৬০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।
পটল, ঢ্যাঁড়শ ও চিচিঙ্গা: অন্যান্য সময়ের তুলনায় কেজিপ্রতি ৫০–৪০ টাকা এখন বিক্রি হচ্ছে
স্বস্তির মুখ: পেঁপে (৪০ টাকা কেজি) এবং লাউ সবজিই এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য
বাজারের সবজি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিতে ক্ষেতেই সবজি পচে নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পণ্য পরিবহনে সময় বেশি লাগছে ও খরচও বেড়েছে। পাইকারি আড়তে পর্যাপ্ত সবজি না আসায় বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে দাবি করছেন তারা। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই বাড়তি দাম অব্যাহত থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।
ক্রেতাদের ভোগান্তি ও ক্ষোভ
বাজারে এসে চরম বিপাকে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা। মাছ-মাংসের চড়া দামের পর এখন সবজির বাজারও হাতছাড়া হওয়ায় দৈনন্দিন হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। সাধারণ ক্রেতারা জানান, ৫০০ টাকায় যেখানে এক সপ্তাহের সবজি কেনা সম্ভব হতো, এখন সেখানে ১০০০ টাকাতেও তা সামলানো যাচ্ছে না। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিজস্ব প্রতিনিধি