শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জোড়াতালি দিয়েই চলছে স্বাস্থ্যসেবা।

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৬ pm
গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জোড়াতালি দিয়েই চলছে স্বাস্থ্যসেবা।

মোঃ সুমন খান, গলাচিপা, পটুয়াখালী।
পটুয়াখালীর গলাচিপার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন চিকিৎসক ও জনবল-সংকট, জরাজীর্ণ ভবন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব, ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগীর চাপ। সব মিলিয়ে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবা চলছে অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে। দক্ষিণাঞ্চলের দুর্গম এ হাসপাতালটি শুধু গলাচিপা নয়, পাশের রাঙ্গাবালী ও দশমিনা উপজেলার হাজারো মানুষের ও এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাত বছর ধরে হাসপাতালটিতে নেই আলট্রাসনোগ্রাম (আলট্রাসাউন্ড) মেশিন। ফলে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে যেতে হচ্ছে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।  এ ছাড়া হাসপাতালে এখনো নেই আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন। সেবা দেওয়া হচ্ছে বহু বছরের পুরনো অ্যানালগ এক্স-রে মেশিন দিয়েই। চিকিৎসকদের ভাষ্য, এতে পাওয়া যায় না মানসম্মত ছবি। ফলে বেশিরভাগ রোগীকেই বাইরে গিয়ে করাতে হয় ডিজিটাল এক্স-রে। অন্যদিকে হাসপাতাল ভবনের অবস্থাও নাজুক। বিভিন্ন স্থান দিয়ে খসে পড়ছে ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা। এতে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন ইনডোরে ভর্তি থাকেন ১০০-২০০ রোগী। আর বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নেন ৩০০-৪০০ জন। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার তিন থেকে চার গুণ বেশি রোগীর চাপ সামাল দিচ্ছে হাসপাতালটি।  উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবাহ উদ্দিন জানান, ‘গলাচিপা উপজেলার চার লাখের বেশি মানুষ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া রাঙ্গাবালী ও দশমিনা উপজেলা থেকেও প্রতিদিন অনেক রোগী এখানে আসেন। কিন্তু ৫০ শয্যার হাসপাতাল দিয়ে এ চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় শয্যা না থাকায় রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হয়।‘বর্তমান বরাদ্দ রোগীর তুলনায় খুবই অপ্রতুল। ওষুধ ও রি-এজেন্টের বরাদ্দ বাড়ানো গেলে আরও ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান ‘ডিজিটাল যুগেও আমরা বহু বছরের পুরনো অ্যানালগ এক্স-রে মেশিন ব্যবহার করছি। গাইনি বিভাগের আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনও আট বছর ধরে বিকল। নতুন যন্ত্রপাতির জন্য কয়েকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!