শিবচর উপজেলা প্রতিনিধি
জাতীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় 'মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬' উপলক্ষে মাদারীপুরের শিবচরের বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজীর সুরা এলাকায় এক বিশাল জনসচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিবচর উপজেলা প্রশাসন ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ বাস্তবায়নে আজ ০৬ অক্টোবর ২০২৬ (মঙ্গলবার) বিকেলে এই সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য, আগামী ০৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি. (২৩ আশ্বিন থেকে ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশে মা ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌ-পুলিশ কর্মকর্তা নাছিম হোসেন, শিবচর উপজেলা মৎস্য দলের আহ্বায়ক দুলাল শেখ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম দীপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুস সাত্তার উকিল, যুগ্ম আহ্বায়ক মহিউদ্দিন খান এবং নার্গিস বেগমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
জনসচেতনতা সভায় বক্তারা মা ইলিশ সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে জেলের ভাইদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানান এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন।
"অভাব নয়, লোভ সংবরণ করতে হবে" নৌ-পুলিশ কর্মকর্তা নাসিম হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, "ইলিশ একটি এনাড্রোমাস প্রজাতির মাছ, যা সমুদ্রে বাস করলেও প্রজননের জন্য মিষ্টি পানিতে অর্থাৎ আমাদের নদীগুলোতে আসে। একটি মাঝারি আকারের ইলিশ ১৫-২০ লক্ষ এবং বড় ইলিশ ২৮-৩০ লক্ষ পর্যন্ত ডিম ছাড়ে। আমরা যদি এদের ডিম ছাড়ার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারি, তবেই 'মাছে-ভাতে বাঙালি' ঐতিহ্যের পূর্ণ প্রত্যাবর্তন ঘটবে। আইন অমান্য করে ইলিশ আহরণ করলে ব্যাপক জেল-জরিমানা ও মামলা দেওয়া হবে।
আমরা চাই না খেটে খাওয়া কোনো জেলে ২২ দিনের লোভ সংবরণ করতে না পেরে জেলে যাক বা শাস্তির মুখোমুখি হোক। আপনারা আইন মেনে চললে দেশের মৎস্য সম্পদ টিকবে এবং সবাই ভালো থাকবে।
বহিরাগত অনুপ্রবেশ রোধ ও বিকল্প সহায়তার অঙ্গীকার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিবচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার গত বছরের অভিযানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, "গত বছর এখানে র্যাব, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বড় ধরনের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এ বছর চাঁদপুর বা ভোলা থেকে আগত বহিরাগত অসাধু জেলেদের স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। অন্যেরা মাছ ধরে লাভবান হবে আর স্থানীয় মৎস্যজীবীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তা হতে দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞার এই ২২ দিনে জেলেদের খাদ্যাভাব পূরণে ইতোমধ্যে সরকার চাল বরাদ্দ দিয়েছে, যা দ্রুতই বন্দরখোলা ইউনিয়নে বিতরণ করা হবে। নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ কেনাবেচাকে মাদকদ্রব্য আইনের মতোই কঠোর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, এ সময়ে মাছ কেনাবেচা বা ধরা হলে সর্বোচ্চ ২ বছরের জেল এবং ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
"ধৈর্য ধরলে মিলবে সুফল" — স্থানীয় নেতৃবৃন্দ
স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মহিউদ্দিন খান বলেন, "বিশ্বের বুকে আমাদের রুপালী ইলিশ আমাদের গর্ব ও সম্পদ। একটি মা ইলিশ রক্ষা পেলে কোটি কোটি নতুন ইলিশের জন্ম হবে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মাছ সরবরাহ নিশ্চিত করবে এবং জেলেদের আয় বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এজন্য কেবল ২২ দিন আমাদের সকলকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।
সভায় শিবচর উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ, স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়, থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত জেলে ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ নির্ধারিত ২২ দিন নদীতে না যাওয়ার এবং মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।