শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

রায়পুরে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজির দামে নৈরাজ্য; সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি সাধারণ গ্রাহক

নিউজ ডেস্ক
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩০ pm
৪
রায়পুরে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজির দামে নৈরাজ্য; সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি সাধারণ গ্রাহক

রায়পুর(লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারি সিদ্ধান্ত তোয়াক্কা না করেই চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার। সরকারের নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে ১২ কেজি পরিমাণের প্রতিটি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের বিরুদ্ধে। অসাধু সিন্ডিকেটের এই চক্রান্তে জিম্মি হয়ে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রায়পুরে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার অজুহাত দেখায়। ফলে সাধারণ ক্রেতারা বাধ্য হয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দাম দিয়ে এলপিজি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

গত মাসেও রায়পুরের অধিকাংশ খুচরা দোকানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ১,৬০০ থেকে ১,৬৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ গত কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই একই সিলিন্ডারের দাম লাফিয়ে ২,০০০ টাকা থেকে ২,৫০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। অর্থাৎ, সিলিন্ডারপ্রতি অতিরিক্ত ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত খসানো হচ্ছে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে। 
রাতারাতি এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের পরিবারগুলো। পাশাপাশি এলপিজি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল ছোট খাবারের দোকান, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসার পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

রায়পুর উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩৬টি হাটবাজার রয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার প্রধান সড়ক, হল রোড, মীরগঞ্জ রোড, হায়দরগঞ্জ, মোল্লারহাট, খাসেরহাট, বাসাবাড়ী, রাখালিয়া, মীরগঞ্জ, নতুনবাজার, গাজিনগর ও মিতালিবাজার এলাকায় সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়—প্রায় প্রতিটি দোকানেই সরকারি নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে দ্বিগুণ দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে।

শহরের  একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে জানান, ডিলার ও পাইকারি বিক্রেতাদের গোডাউনে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার মজুদ রয়েছে। কিন্তু বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেশি দামে সিলিন্ডার ছাড়ছেন তারা।

অন্যদিকে রায়পুর  প্রধান সড়ক , নতুনবাজার, মিতালিবাজার হায়দরগন্জ  এলাকার খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারা বাধ্য হয়েই বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন। তারা জানান, "আমরা নিজেরা ইচ্ছে করে দাম বাড়াইনি। আমাদেরই পাইকারি বা ডিলার পর্যায় থেকে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। বেশি দামে কেনায় নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।"

বাজার করতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "রান্নার গ্যাস না হলে আমাদের একদিনও চলে না। বাজারে গেলে শুনছি গ্যাস নেই, কিন্তু বেশি টাকা দিলে ঠিকই পাওয়া যাচ্ছে। সরকার দাম নির্ধারণ করলেও রায়পুরে সেই নিয়ম কেউ মানে না। নিয়মিত তদারকি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা আমাদের পকেট কাটছে। আমরা দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চাই।"

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সিন্ডিকেটের গোডাউনে অভিযান না চালালে এই অরাজকতা থামবে না। তারা বলেন, "রায়পুরের প্রতিটি বাজারে এখন সিন্ডিকেটের রাজত্ব চলছে। অসাধু মজুতদারদের খুঁজে বের করে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে না।"

বাজারের এই নৈরাজ্য ও ক্রেতাদের চরম ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউসার জানান, "বিষয়টি ইতোমধ্যে আমাদের নজরে এসেছে। সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে দ্রুতই বাজার তদারকি অভিযান শুরু করা হবে। কৃত্রিম সংকট তৈরি ও অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!