বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

প্রাচীন কয়েনের ফাঁদে ২ কোটি ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৪

নিউজ ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৩ pm
৭
প্রাচীন কয়েনের ফাঁদে ২ কোটি ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৪

সজিব উদ্দিন হেলাল
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি::

মৌলভীবাজারে কথিত প্রাচীন কয়েন ও মূল্যবান ধাতব বস্তু কেনাবেচায় বিপুল লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- রাজনগরের বাংলা টিলা গ্রামের এসএম ইলিয়াছুর রহমান (৩৬), শ্রীমঙ্গলের উত্তর ভাড়াউড়া গ্রামের মো. ইকরাম মিয়া (২৮), ঢাকার শ্যামলী এলাকার তাহের-উল-ইসলাম আখতারুজ্জামান (৬১) এবং মোহাম্মদিয়া হাউজিং এলাকার মো. ইব্রাহিম বেপারী (৩৭)।

ডিবি পুলিশ জানায়, ইলিয়াছুর রহমান ও ইকরাম মিয়াকে শ্রীমঙ্গল থেকে এবং তাহের-উল-ইসলাম আখতারুজ্জামান ও ইব্রাহিম বেপারীকে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে একটি কথিত ‘এন্টিক পাওয়ার কয়েন’, একটি নোহা গাড়ি, আটটি মুঠোফোন, ৫০০টি ভিজিটিং কার্ড, ৯৪ পাতার কথিত ব্যবসায়িক চুক্তিপত্র, তিনটি চেকবই, ১০টি সিমকার্ড, ভুয়া স্ট্যাম্প, ডায়েরি, কয়েনের অ্যালবাম এবং ‘এন্টিক গ্যালারি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি কথিত সার্টিফিকেট জব্দ করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, চক্রটি বিভিন্ন নামী-দামি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল। কথিত প্রাচীন মুদ্রা ও মূল্যবান ধাতব বস্তু কেনাবেচায় বিপুল মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে তারা সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের ফাঁদে ফেলত।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রাজনগরের বালিসহস্র গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুর রহিমের সঙ্গে ইলিয়াছুর রহমানের পরিচয়ের সূত্র ধরে চক্রটির যোগাযোগ হয়। তাঁকে বলা হয়, চাতলাপুর চা-বাগানে ব্রিটিশ আমলের একটি অত্যন্ত মূল্যবান ধাতব বস্তু রয়েছে। ঢাকার একটি পক্ষ সেটি কিনতে আগ্রহী এবং লেনদেনে মধ্যস্থতা করতে পারলে বিপুল অর্থ লাভ করা যাবে।

পরে আব্দুর রহিমের আমেরিকাপ্রবাসী মামাতো ভাই মির্জা খালেদুর রহমানকেও বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, চক্রের সদস্য তাহের-উল-ইসলাম নিজেকে ‘US Heritage Auction’-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর পরিচয় দিয়ে কথিত বস্তুটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এরপর একজনকে ‘বিশেষজ্ঞ’ সাজিয়ে কথিত ধাতব বস্তুটি পরীক্ষা করানো হয়। ওই ব্যক্তি বস্তুটিকে আসল ও মূল্যবান বলে দাবি করলে ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে বাগানিদের অর্থ দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে চারটি স্বাক্ষরিত চেক নেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর কথিত বস্তুটি ক্রেতার কাছে হস্তান্তরের কথা বলে তাঁদের চাতলাপুর চা-বাগানে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের কাছ থেকে নগদ দুই কোটি টাকা নেওয়া হয়।

একপর্যায়ে একটি বাক্সে কথিত মূল্যবান বস্তু রেখে সেটি দুই দিন পর খুলতে বলা হয়। বাক্সটি সিলেটে নিয়ে নির্ধারিত সময় পর খোলা হলে ভুক্তভোগীরা দেখতে পান, ভেতরে কোনো মূল্যবান বস্তু নেই; রয়েছে একটি সাপ।
পরে চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন কথা বলে তাঁদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে। এমনকি কথিত ‘আইটেম’ জিনের মাধ্যমে সাপে পরিণত হয়েছে এবং ২১ দিন পর সেটি ফিরে আসবে বলেও দাবি করা হয়।

পরবর্তী সময়ে আরও একটি মূল্যবান বস্তু পাওয়ার কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হলে ভুক্তভোগীরা আরও ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেন। তবে শেষ পর্যন্ত অর্থ বা কথিত মূল্যবান বস্তু ফেরত না পাওয়ায় প্রতারণার বিষয়টি তাঁদের কাছে স্পষ্ট হয়।

ডিবি পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ২০২৪ সালে কুলাউড়া থানায় মামলা করা হয়। গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ সাধারণ মানুষকে অস্বাভাবিক মুনাফার প্রলোভনে পড়ে কথিত প্রাচীন কয়েন, সীমানা পিলার বা মূল্যবান ধাতব বস্তু কেনাবেচায় অর্থ বিনিয়োগ না করার আহ্বান জানিয়েছে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!