ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচির খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন, আকার কমার অভিযোগ উঠেছে
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে চালু করা স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবারের মান, আকার ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা বনরুটি, সিদ্ধ ডিম, ইউএইচটি দুধ, ফোর্টিফাইড বিস্কুট ও কলার মান নিয়ে শিক্ষকদের একাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ের ২০১৫ সালের ২২ জুনের এক চিঠিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বিতরণের কথা উল্লেখ করা হয়। কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যালয় চলাকালে শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের মাধ্যমে তাদের পুষ্টিমান ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা।
প্রকল্পের নির্ধারিত খাদ্য তালিকা অনুযায়ী সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে শিক্ষার্থীদের বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম, বনরুটি ও ইউএইচটি দুধ এবং ফোর্টিফাইড বিস্কুটের সঙ্গে কলা বা স্থানীয় মৌসুমি ফল দেওয়ার কথা রয়েছে।
সহকারী শিক্ষক কাজলরেখা বলেন"সব খাবারই নিয়মিত পাই,তবে বিস্কিটের বেলায় অনিয়ম করে।
৭৮ নং বড়শৃবর্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদুজ্জামান বলেন"আজ২৯/৯/২০২৬ রোজ মঙ্গলবার ফোর্টিফাইড বিস্কুট ও কলা তালিকায় থাকলেও দেওয়া হয়েছে শুধু কলা।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য দুই পিস বনরুটির মোট ওজন ১২০ গ্রাম এবং নির্ধারিত মূল্য ২৫ টাকা। তবে কম দরে পাওয়া যাওয়ায় তা ২৩ টাকায় কেনা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। একটি সিদ্ধ ডিমের মূল্য ১৪ টাকা। অন্যদিকে ২০০ মিলিলিটার ইউএইচটি দুধের নির্ধারিত মূল্য ২৭ টাকা হলেও বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় ২৯ টাকায় কেনা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। ৭৫ গ্রাম ফোর্টিফাইড বিস্কুটের মূল্য ১৯ টাকা এবং ১০০ গ্রাম কলার মূল্য ১০ টাকা। এর সঙ্গে ভ্যাট ও আয়কর যুক্ত রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে খাবারের মূল্য ও বরাদ্দের পাশাপাশি খাবারের গুণগত মান নিয়ে অভিযোগই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, প্রকল্পের শুরুর দিকে বনরুটি ও ডিমের আকার তুলনামূলক বড় ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খাবারের আকার ছোট হয়ে আসছে।
একজন প্রধান শিক্ষক বলেন, “প্রকল্পের শুরুতে রুটি ও ডিমের সাইজ আরও বড় ছিল। দিন যাচ্ছে, ক্রমশ সাইজ ছোট হচ্ছে। কয়েক দিন ফাঙ্গাসযুক্ত রুটিও পেয়েছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো ফেরত দিয়েছি। এরপর ওই খাবার আর আসেনি।”
অন্য এক শিক্ষক বলেন, “সবকিছু যেমন-তেমন হলেও কলার সাইজ মোটেও ভালো নয় । কলার মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। নিয়মিত এমন নিম্নমানের খাবার দেওয়া হলে শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।”
তবে ওই শিক্ষকের কলায় ‘ফরমালিন’ থাকার অভিযোগের বিষয়ে কোনো পরীক্ষাগারভিত্তিক প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি যাচাই না করে নিশ্চিতভাবে কলায় ফরমালিন থাকার দাবি করা সমীচীন নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিভাবকদের দাবি, শিশুদের জন্য সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে খাবারের পরিমাণ ও গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো খাবার নিম্নমানের, পচা বা ফাঙ্গাসযুক্ত হলে তা বিদ্যালয়ে সরবরাহের আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে ধরা পড়া উচিত।
শিক্ষকদেরও দাবি, শুধু খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করলেই হবে না; প্রতিটি বিদ্যালয়ে খাবারের ওজন, আকার, মেয়াদ, সংরক্ষণব্যবস্থা ও মান নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো অনিয়ম বা নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা শিক্ষা অফিসার চুন্নু ফকির বলেন নগরকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বলেন "এখন পর্যন্ত আমাকে কোনো শিক্ষক জানায়নি, যে আজ শুধু কলা দেওয়া হয়েছে। আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম, আমি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করবো।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে যোগাযোগ করতে একাধিক বার ফোন দিয়ে না পাওয়ার কারণে তার বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া এই কর্মসূচিতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে কার্যকর তদারকি জরুরি বলে মনে করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।