‘ধানের শীষে ভোট চাইছি, মাফ চাই। আপনাদের পা ধরি আর এসএমএস, কল দিয়েন না। একটা ভোটই তো চেয়েছিলাম, জায়গা-জমি তো আর চাইনি।’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এমন এক পোস্ট দেওয়ার পর জামালপুর জেলা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক জাকিরুল হককে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর )কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পরে রাতে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে বিজ্ঞপ্তিতে জাকিরুল হকের ফেসবুক পোস্টটির বিষয়ে সরাসরি কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে বহিষ্কারের কারণ হিসেবে ‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ’-এর কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
এর আগে, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে জাকিরুল হক তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘যাদের কাছে আমি ধানের শীষের জন্য ভোট চাইছি, তাদের কাছে মাফ চাই। আপনাদের পা ধরি ভাই, কেউ আর এসএমএস, কল দিয়েন না। একটা ভোটই তো চেয়েছিলাম, জায়গা-জমি তো আর চাইনি।’
পোস্টের শেষ অংশে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘দলের আগে দেশ। আমি দেশের পক্ষে, আমি সাধারণ জনগণের পক্ষে। আমি সবসময় দেশের মানুষের পক্ষে আছি।’
বহিষ্কারের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জাকিরুল হক বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রতিবাদে সোমবার সকালে তিনি ফেসবুকে ওই পোস্টটি করেছিলেন এবং এর পরই তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।
অন্যদিকে জামালপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আতিকুর রহমান সুমিল জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্র থেকে জাকিরুলকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সংসদের এ সিদ্ধান্ত যৌক্তিক ও যুক্তিযুক্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, জাকিরুল হক জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের গুনারিতলা পূর্বপাড়া এলাকার সামিউল হকের ছেলে। তিনি জামালপুর জেলা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বে ছিলেন।