আফাজ উদ্দিন
গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রতিনিধিঃ
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার চরম জনদুর্ভোগে থাকা পিরোজপুর-সোনারহাট সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন এলজিইডি সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান। গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) তিনি সড়কটির বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ঘুরে দেখেন। পরে তিনি সালুটিকর-বঙ্গবীর সড়কের চলমান উন্নয়ন কাজও পরিদর্শন করেন।
এর আগে, গত ২০ জুলাই গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজ ফটকের সামনে গোয়াইনঘাট-বঙ্গবীর সড়কে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। উক্ত কর্মসূচি থেকে তারা সড়কটি দ্রুত সংস্কারসহ চার দফা দাবিতে স্থানীয় প্রশাসনকে ৩ দিনের আল্টিমেটাম দেন। শিক্ষার্থীদের এই কঠোর আল্টিমেটামের পরিপ্রেক্ষিতেই এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত সড়কটি পরিদর্শনে আসেন।
সড়ক পরিদর্শনকালে নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী, উপজেলা প্রকৌশলী হাসিব আহমেদ এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এডভোকেট শাহজাহান সিদ্দিকী।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান বলেন, পিরোজপুর-সোনারহাট সড়কের কাজের নির্ধারিত মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের চলাচলের অনুপযোগী। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রেক্ষিতে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সড়কটির কাজ সম্পন্ন করে হ্যান্ডওভার করা হবে। তিনি আরও ঘোষণা দিয়ে বলেন, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, গোয়াইনঘাটের রাস্তাগুলোতে টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে আর নতুন করে কার্পেটিং করা হবে না। এই অঞ্চলের সড়কগুলোকে পর্যায়ক্রমে আরসিসি (রোড কাস্টিং) সড়কে রূপান্তর করা হবে।
এদিকে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর এই ঝটিকা পরিদর্শন এবং সড়কটি আরসিসিতে উন্নীত করার আশ্বাসের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে। তবে আশ্বাসের পাশাপাশি অতি দ্রুত মাঠপর্যায়ে সংস্কারকাজ শুরু করে দীর্ঘদিনের মরণফাঁদে পরিণত হওয়া এই সড়কের দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি চান ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
উপজেলা প্রতিনিধি