সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

সুজানগরে সরকারি ডাঃ জহুরুল কামাল ডিগ্রি কলেজের ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় কোটি টাকা উধাও  আদালতে মা/ ম/ লা

খন্দকার মো মনিরুজ্জামান
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৮ pm
সুজানগরে সরকারি ডাঃ জহুরুল কামাল ডিগ্রি কলেজের ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় কোটি টাকা উধাও  আদালতে মা/ ম/ লা
বিস্তারিত কমেন্ট

কলেজের ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় কোটি টাকা উধাও  আদালতে মা/ ম/ লা

‎উপজেলা প্রতিনিধিঃ খন্দকার মো মনিরুজ্জামান

‎পাবনার সুজানগরের দুলাই সরকারি ডাঃ জহুরুল কামাল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড.মোঃ আব্দুল মজিদের স্বাক্ষর জাল করে চেকের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১ কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে অত্র কলেজের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর গিয়াস কামাল তপনের বিরুদ্ধে।

তবে কলেজের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর গিয়াস কামাল তপনের দাবি স্বাক্ষর জাল নয় তিনি অধ্যক্ষ স্যারের সম্মতিতে এবং তার স্বাক্ষরেই বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন।

এদিকে এ ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি করে পরবর্তী দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলেজ প্রশাসন। এদিকে বৃহস্পতিবার সরকারি ডাঃ জহুরুল কামাল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আব্দুল মজিদ কলেজের প্রায় এক কোটি টাকা তার স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন সময়ে উত্তোলনের অভিযোগ এনে কলেজের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর গিয়াস কামাল তপনের বিরুদ্ধে এবং স্থানীয় দুলাই জনতা ব্যাংক শাখা কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও গাফলতির কথা উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার(১৭ সেপ্টেম্বর) পাবনা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

কলেজের প্রশাসনিক সূত্র মাধ্যমে গত ১০-০৯-২০২৬ ইং তারিখে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আব্দুল মজিদ দুলাই জনতা ব্যাংক শাখার কলেজের হিসাব শাখার ২২,৫০০/= এবং ৩৯,৯০০ টাকার পৃথক দুটি চেক স্বাক্ষর করে টাকা উত্তোলনের জন্য কলেজের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর গিয়াস কামাল তপনের কাছে দেন।

পরবর্তীতে অধ্যক্ষ এর মোবাইল নাম্বারে ব্যাংক থেকে ওই তারিখেই একটি চেকের মাধ্যমে ২ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলনের একটি ম্যাসেজ আসে।

মোবাইল ফোনে মেসেজ পেয়ে তাঁর বিষয়টি সন্দেহ হলে পরবর্তীতে অধ্যক্ষ ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারেন তার স্বাক্ষরযুক্ত চেকের মাধ্যমেই এ টাকা উত্তোলন করেছেন গিয়াস কামাল তপন।

এ ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত গিয়াস কামালের চেক লেখার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্য শাখায় নিযুক্ত করা হয়।এ বিষয়ে সরকারি ডাঃ জহুরুল কামাল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আব্দুল মজিদ বলেন, আমি গত ১০ তারিখে পৃথক দুটি চেক দিয়েছিলাম ৬২ হাজার ৪০০ টাকা তোলার জন্য। কিন্তু বিকেলে আমার মোবাইলে ২ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলনের মেসেজ আসে।

বিষয়টি সন্দেহ হলে আমি ব্যাংক ম্যানেজারকে ফোন দিই। তিনি আমাকে তিনটি চেক জমার কথা বলেন। পরে ব্যাংকে গিয়ে ২ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলনের চেকে যে স্বাক্ষর দেওয়া রয়েছে তার সাথে আমার স্বাক্ষরের কোন মিল নেই জানালে ব্যাংকের ম্যানেজার মোজাম্মেল হক কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

পরে আমি কলেজে এসে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিবসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা সহ কয়েকজন শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি পাবনা আদালতে মামলা দায়ের করেছি।এর আগেও বিভিন্ন সময়ে প্রায় কলেজের বিভিন্ন একাউন্ট থেকে প্রায় কোটি টাকা তার স্বাক্ষর জাল করে উত্তোলন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে দুলাই জনতা ব্যাংক শাখার শাখা ব্যাবস্থাপক মোজাম্মেলের কাছে চেকে অধক্ষের স্বাক্ষরের মিল না থাকলেও টাকা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল জানান, অধ্যক্ষর একক স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন হয়ে থাকে।

একজন অধ্যক্ষ হিসেবে চেক বই তঁার কাছে থাকার নিয়ম এবং প্রতি মাসে ব্যাংক হিসাব বিবরণী অধ্যক্ষ মনোনীত ব্যাক্তির পাওয়ার কথা । তাই কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় এলাকাবাসী এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ অথবা কলেজের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর অথবা ব্যাংকের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!