মনিরামপুর উপজেলাতে আন্তর্জাতিক সর্পদর্শন সচেতনতা দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সচেতনামূলক কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
সর্পদংশন দিবস টি উপলক্ষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে সর্পদংশনের ঝুঁকি ও প্রতিরোধের উপায়, সাপে কাটার পর করণীয় কি, দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়। সাপে কাটার পর ওঝা কবিরাজ কিংবা ঝাড় ফুকের মাধ্যমে সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান গ্রাম অঞ্চলের সর্প দংশনের ঘটনা তলুমনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে বর্ষাকালে পানিতে,ধান ক্ষেতে, বাড়ির আশেপাশে সাপের বিচরন বাড়লে সর্প দংশনের ঝুকিও বৃদ্ধি পায়।অসচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।সাপে কাটার পর আতঙ্কিত না হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে নিতে হবে। আক্রান্ত অঙ্গটি স্থির রাখার চেষ্টা করতে হবে এবং দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। নিরাপদ দূরত্বে থেকে সম্ভব হলে সাপটির ছবি তুলে চিকিৎসকে দেখানো যেতে পারে।
কর্মসূচিতে সাপে কাটার পর ক্ষত স্থান কেটে রক্ত বের করা, মুখ দিয়ে বিষ চুষে নেওয়া, আক্রান্ত স্থানে শক্ত করে রশি দিয়ে বেধে রাখার মত ক্ষতিকর পদ্ধতি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়া হয়।ঝাড় ফুকের মাধ্যমে চিকিৎসার সময় নষ্ট না করার আহ্বান জানানো হয়। সাপে কাটার পর যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌছানোর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।সময় মত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ পেলে অনেক রোগী সুস্থ হয়। বাড়ির আশেপাশের ঝোপ ঝাড় নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং রাতে বাহিরে চলাচলের সময় টর্চ লাইট অথবা পর্যাপ্ত আলো ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে বলা হয় সাপে কাটলে আতঙ্ক নয়, সময় নষ্ট নয় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসায় পারে একটি জীবন বাচাতে। উক্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের চিকিৎসক,বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।