শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

‎বেলকুচিতে তালুকদার মেটুয়ানিতে সালিশ চলাকালে হামলার অভিযোগ, গুরুতর আহত ৫

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৯ am
‎বেলকুচিতে  তালুকদার মেটুয়ানিতে সালিশ চলাকালে হামলার অভিযোগ, গুরুতর আহত ৫

‎রিপোর্টার মোঃ হাবিবুর রহমান বেলকুচি সিরাজগঞ্জ 
‎সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে মেয়েকে মোবাইল ফোনে উত্ত্যক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত সালিশ বৈঠকে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
‎এ ঘটনায় মোঃ আব্দুল হালিম নামে এক ব্যক্তি বেলকুচি থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে এজাহার দায়ের করেছেন।
‎এজাহার সূত্রে জানা যায়, আব্দুল হালিমের মেয়ে মোছাঃ সুমাইয়া খাতুন (১৮) প্রায় দুই মাস আগে বেলকুচি উপজেলার আজুগড়া গ্রামের মোঃ আকাশ হোসেনের সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করছিলেন। এ সময় তালুকদার মেটুয়ানী গ্রামের মোঃ আতিক (২২) সুমাইয়াকে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন কথাবার্তার মাধ্যমে বিরক্ত ও উত্ত্যক্ত করতেন বলে অভিযোগ করা হয়।
‎এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি নিয়ে আতিককে একাধিকবার নিষেধ করা হলেও তিনি তা মানেননি। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানানো হলে তারা আতিককে সতর্ক করেন। এরপরও তিনি সুমাইয়াকে মোবাইল ফোনে বিরক্ত করতে থাকেন বলে অভিযোগ। এ নিয়ে নিষেধ করলে আব্দুল হালিম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
‎ঘটনার দিন ১৭ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে তালুকদার মেটুয়ানী গ্রামের মোঃ আব্দুর রহমান মাস্টারের বাড়িতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠক বসে। এজাহার অনুযায়ী, সালিশ শেষ হওয়ার দিকে ১৮ জুলাই রাত আনুমানিক ১টার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে।
‎অভিযোগে বলা হয়, এ সময় আসামিরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড, কাঠের বাটাম ও বাঁশের লাঠি নিয়ে হামলা চালান। এতে আব্দুল হালিমের চাচাতো ভাই মোঃ লুৎফর রহমান (৫৫) ও মোঃ বেল্লাল হোসেন (৬০) মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। এছাড়া আব্দুল হালিম, তার ছোট ভাই হাসান (৩৮), চাচাতো ভাই রুবেল (২৮) এবং বড় ভাই মোঃ হেলাল (৪৮) আহত হয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
‎আহতদের মধ্যে লুৎফর রহমান ও বেল্লাল হোসেনকে প্রথমে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠান। পরে লুৎফর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার উত্তরা এলাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
‎এ ঘটনায় আব্দুল হালিম বাদী হয়ে বেলকুচি থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে হামলা, মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
‎তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশি তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের পর প্রকৃত ঘটনা আরও স্পষ্ট হবে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!