ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রতি বস্তা সারে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডিলারদের বিরুদ্ধে। অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির পাশাপাশি কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী ক্যাশ মেমো না দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন একদল কৃষক। গত ৭ সেপ্টেম্বর দেওয়া ওই আবেদনে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে সরেজমিন তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। আবেদনের সঙ্গে কৃষকদের নাম, মুঠোফোন নম্বর ও স্বাক্ষরসংবলিত একটি তালিকাও সংযুক্ত করা হয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কেজিপ্রতি প্রায় ১০ থেকে ১২ টাকা বেশি দরে সার বিক্রি করা হচ্ছে। এতে প্রতি বস্তায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে তাঁদের। বিষয়টি নিয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে বলা হয়, ফরিদপুর সদর উপজেলার চাঁদপুর নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়ন, মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়ন, বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়ন, দাদপুর ইউনিয়ন, ঘোষপুর ইউনিয়নসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ সরেজমিন তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কৃষকেরা।
লিখিত আবেদনে কৃষকেরা আরও অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির ক্ষেত্রে ডিলারদের কাছে ক্যাশ মেমো চাওয়া হলে অনেক সময় তা দেওয়া হয় না।
কৃষকদের ভাষ্য, সার কেনার সময় প্রকৃত মূল্য ও পরিমাণ উল্লেখ করে ক্যাশ মেমো না থাকায় অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগের প্রমাণ সংরক্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বিক্রয় রেজিস্টার, স্টক রেজিস্টার ও ক্যাশ মেমো সরেজমিনে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
কৃষকেরা বলছেন, চাষাবাদের বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এমনিতেই উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর মধ্যে সরকারি ভর্তুকির সার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হলে কৃষকের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়।
বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা এই বাড়তি ব্যয়ের কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
তদন্ত চেয়েছেন কৃষকেরা,
জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া আবেদনে কৃষকেরা বলেছেন, অভিযোগগুলো সরেজমিন তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকের কাছে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিসের বরাদ্দপত্র, ডিলারদের সার উত্তোলনের চালান, মজুত রেজিস্টার, বিক্রয় রেজিস্টার ও ক্যাশ মেমো পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেটিও এখন দেখার বিষয়।