মোঃএমরুল ইসলাম
দেশের তরুণ ও যুব সমাজ আজ মাদক ও অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ থাবায় বিপর্যস্ত। সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে অনেক তরুণ জড়িয়ে পড়ছে অনলাইন জুয়ায়, আর এর সঙ্গে বাড়ছে মাদকাসক্তি, চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংসহ নানা অপরাধ। এ সংকট মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
প্রথমত, পরিবারকে সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে এবং তাদের চলাফেরা, বন্ধুমহল ও মোবাইল ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে নিয়মিত মাদক ও জুয়াবিরোধী সচেতনতামূলক সভা, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করতে হবে।
তৃতীয়ত, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের ইতিবাচক কাজে উৎসাহিত করতে হবে।
চতুর্থত,ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা জোরদার করতে হবে, যাতে তরুণরা নেশা ও জুয়ার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন হয়।
পঞ্চমত, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে মাদক ও জুয়ার আড্ডার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং অপরাধীদের বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনকে তথ্য দিতে হবে।
এছাড়া, যারা ইতোমধ্যে নেশা বা জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে, তাদের বঞ্চিত না করে কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের সুরক্ষায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে মাদক ও জুয়ার ভয়াবহতা থেকে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় প্রজন্ম গড়ে তুলতে।
নিজস্ব প্রতিনিধি