পোড়ামাটির তৈরি ইটের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে বাগেরহাটে লিংকেজ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে CODEC-SMART প্রকল্পের আওতায় পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (PKSF)-এর সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন বিথি, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মধুসূদন দেবনাথ, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঞ্জুর রশীদ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাফিজ আক্তার এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক দেলোয়ার হোসেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে CODEC-এর বাগেরহাট অঞ্চলের ফোকাল পার্সন সৈয়দ মাহাবুবুর রহমান, SMART প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক লোকমান হোসেনসহ প্রকল্পের কর্মকর্তা, কংক্রিট ব্লক উৎপাদনকারী, ঠিকাদার, ইটভাটা মালিক, কারখানা মালিক, বিক্রেতা, ডিলার ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯)-এর আলোকে সরকারি নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কারকাজে ইটের বিকল্প হিসেবে ধাপে ধাপে ১০০ শতাংশ ব্লক ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
সরকারি ক্রেতাদের সঙ্গে স্থানীয় ব্লক উৎপাদনকারীদের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি, পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এ লিংকেজ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
আয়োজকরা জানান, CODEC বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালী—এই পাঁচ জেলার ২১টি উপজেলায় কংক্রিট সামগ্রীর উদ্যোক্তা উন্নয়নে কাজ করছে। বর্তমানে ৪৮ জন উদ্যোক্তা ম্যানুয়াল, সেমি-অটোমেটিক ও অটোমেটিক মেশিনের মাধ্যমে কংক্রিট ব্লক, সলিড ব্লক, হোলো ব্লক, ইউনি ব্লক ও পার্কিং টাইলসসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে CODEC ও PKSF-এর উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত ব্লকের গুণগত মান বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি কমাতে প্রচলিত ইটভাটার মালিকদেরও ধাপে ধাপে ব্লক উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি উন্নয়নকাজে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও দপ্তরপ্রধানদের নিজ নিজ বিভাগের উন্নয়নকাজে ব্লক ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন।
SMART প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক লোকমান হোসেন বলেন,আমাদের লক্ষ্য শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়; সম্পদ সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করে উদ্যোক্তাদের জন্য একটি টেকসই বাজার নিশ্চিত করা।
স্থানীয় কংক্রিট ব্লক উদ্যোক্তা জিয়াউল হক জোসেফ বলেন,বাইরে থেকে পণ্য আনার পরিবর্তে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত ব্লক ব্যবহার করলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা যেমন টিকে থাকতে পারবেন, তেমনি সরকারের পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয়ও অনেকটা কমে আসবে।
কর্মশালায় পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান, সরকারি উন্নয়নকাজে ব্লকের ব্যবহার বৃদ্ধি, স্থানীয় উৎপাদকদের সঙ্গে সরকারি ক্রেতাদের বাজার সংযোগ এবং উদ্যোক্তাদের জন্য টেকসই বাজার তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।