বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

সরকারি কোষাগারে সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে কচুয়া উপজেলা প্রশাসনের অনন্য দৃষ্টান্ত

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৪ pm
সরকারি কোষাগারে সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে কচুয়া উপজেলা প্রশাসনের অনন্য দৃষ্টান্ত

মো:মুন্না শেখ, কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:

সরকারি উন্নয়ন মানেই বাজেট বৃদ্ধির পুরনো প্রথা বা অতিরিক্ত অর্থ খরচের প্রবণতা—এই ধারণাকে পাল্টে দিয়ে এক ব্যতিক্রমী ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা প্রশাসন। নির্ধারিত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সফলভাবে শেষ করার পর অব্যয়িত ৩৪ লাখ ৩৮ হাজার ২৯৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে তারা। সততা, স্বচ্ছতা ও সুশাসনের এই বিরল ঘটনা স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।
প্রকল্প দপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপালপুর ও মঘিয়া ইউনিয়নে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বর্ষায় জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচসুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এই প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল ৭৭ লাখ ৩৩ হাজার ১৪২ টাকা। তবে কঠোর তদারকি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কাজ শেষ করতে প্রকৃত ব্যয় হয়েছে মাত্র ৪২ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪৩ টাকা। এতে কোনো ধরনের অপচয় ছাড়াই উদ্বৃত্ত থাকে ৩৪ লাখ ৩৮ হাজার ২৯৯ টাকা, যা কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী হাসান-এর মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।
যেসব এলাকায় কাজ হয়েছে:
প্রকল্পের আওতায় মোট ২ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি খালের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
 গোপালপুর ইউনিয়নে দড়িটানা থেকে বলেশ্বর নদীর সংযোগ পর্যন্ত ১ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন।
 মঘিয়া ইউনিয়নে কুন্ডু বাড়ি থেকে স্বপন মাঝির বাড়ি পর্যন্ত ১ কিলোমিটার কাঠালিয়া খাল পুনঃখনন।
শুধু খননকাজেই সীমাবদ্ধ থাকেনি প্রশাসন; পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে খালের দু’পাড়ে রোপণ করা হয়েছে ৮০০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা। পাশাপাশি, স্থানীয় সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করতে এবং পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে নির্মাণ করা হয়েছে পাইপ কালভার্ট ও কাঠের পুল।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুদেব কৃষ্ণ বলেন, "শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইউএনও মহোদয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে কাজের গুণগত মান বজায় রেখে সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। সঠিক তদারকি ও সুশাসনের ফলেই কোনো ধরনের অপচয় ছাড়াই বিশাল অঙ্কের সরকারি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে।"
স্থানীয় কৃষক ও প্রবীণরা জানান, খাল দুটি পুনঃখনন করায় এলাকার কৃষি খাতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি, সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের এমন সততা ও দায়িত্বশীলতা স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রমে এক দুর্লভ ও অনুপ্রেরণাদায়ক ইতিহাস হয়ে থাকবে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!