সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

নওগাঁয় অপারেশনের পর নারীর মৃত্যু, ক্লিনিক সিলগালা

আব্দুল্লাহ আল মাহীদ
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৯ pm
৫৬
নওগাঁয় অপারেশনের পর নারীর মৃত্যু, ক্লিনিক সিলগালা

নওগাঁর মহাদেবপুরে পাইলসের অস্ত্রোপচারের পর নাছিমা খাতুন (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় আল মদিনা ডিজিটাল ডায়াগনিষ্টিক এন্ড জেনারেল হাসপাতাল সিলগালা করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে হাসপাতালটি সিলগালা করেন। এ সময় মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. খুরশিদুল ইসলাম, আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. ইমরুল কায়েশসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

নিহত নাছিমা খাতুন মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের চকগৌড়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের স্ত্রী।

নাছিমার স্বজনদের ভাষ্য, পাইলসের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে আল মদিনা ডিজিটাল ডায়াগনিষ্টিক এন্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পাইলসের অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুর রহমান মন্ডলের সঙ্গে ১২ হাজার টাকায় চুক্তি হয়।

স্বজনদের দাবি, ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নাছিমাকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ইমরান আলী অ্যানেস্থেশিয়া দেন এবং ডা. দেওয়ান মো. আব্দুস সবুর অস্ত্রোপচার করেন।

নাছিমার স্বজন জাকারিয়া জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর তার রক্তসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। একটি প্রতিবেদনে নাছিমার হিমোগ্লোবিন ৭ দশমিক ৪ গ্রাম/ডেসিলিটার এবং একই দিনে করা অন্য একটি প্রতিবেদনে ৭ দশমিক ৫ গ্রাম/ডেসিলিটার পাওয়া যায়।

স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই প্রতিবেদনে রক্তের অন্যান্য উপাদানেও পার্থক্য ছিল। একটি প্রতিবেদনে ডব্লিউবিসি ১২ হাজার ২০০ ও প্লেটলেট ৩ লাখ ৮৪ হাজার এবং অন্য প্রতিবেদনে ডব্লিউবিসি ২৬ হাজার ২০০ ও প্লেটলেট ৬ লাখ ৫ হাজার উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের সময় বা পরে রক্তস্বল্পতার কারণে নাছিমাকে ‘বি’ পজিটিভ গ্রুপের এক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়।

স্বজনেরা প্রশ্ন তুলেছেন, রক্তস্বল্পতা থাকা অবস্থায় অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী পর্যবেক্ষণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের উপস্থিতি যথাযথ ছিল কি না।

নিহত নাছিমার স্বামী রেজাউল ইসলাম বলেন, অস্ত্রোপচারের পর রাতে তার স্ত্রীর অবস্থা মোটামুটি ভালো ছিল। কিন্তু পরদিন রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান।

রেজাউল ইসলামের অভিযোগ, স্ত্রীর অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসককে ডাকতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে সকাল ৯টার দিকে অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ডা. দেওয়ান মো. আব্দুস সবুর হাসপাতালে আসেন এবং রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে অন্যত্র নেওয়ার আগেই নাছিমার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের লিখিতভাবে মীমাংসা হয়েছে।

অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ডা. দেওয়ান মো. আব্দুস সবুর বলেন, তিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে অস্ত্রোপচার করছেন। রোগীর কাগজপত্র ও পরীক্ষার রিপোর্ট দেখেই অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

অস্ত্রোপচারের আগে নাছিমার হিমোগ্লোবিন ৭ দশমিক ৪ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অস্ত্রোপচারের সময় রোগীকে এক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছিল।

আল মদিনা ডিজিটাল ডায়াগনিষ্টিক এন্ড জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুর রহমান মন্ডল বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে অ্যানেস্থেশিয়া ও অস্ত্রোপচার করানো হয়েছে। রোগীর কাগজপত্র দেখেই চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি চিকিৎসকই ভালো বলতে পারবেন। রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনদের সঙ্গে লিখিতভাবে মীমাংসা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের কারণে এর আগেও ওই ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছিল। রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি জানার পর হাসপাতালটি সিলগালা করা হয়েছে। তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!