বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

কৃষকদের সুবিধায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণ, নির্বিঘ্নে খালে যাচ্ছে ৫টি মাঠের অতিরিক্ত পানি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি নবী ওয়ালিউল্লাহ
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪১ pm
কৃষকদের সুবিধায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণ, নির্বিঘ্নে খালে যাচ্ছে ৫টি মাঠের অতিরিক্ত পানি

স্টাফ রিপোর্টার ,

নবী ওয়ালিউল্লা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাউলি এলাকায় কয়েকটি মাঠের কৃষকদের সুবিধার জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে নির্বিঘ্নে খালের মাধ্যমে নদীতে যাচ্ছে ৫টি মাঠের অতিরিক্ত পানি। সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের পাউলি এলাকায় এই ড্রেন নির্মাণ করেছেন উমর ফারুক নামের এক কৃষি উদ্যোক্তা। ফলে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান পেয়েছেন আমনুরা-পাউলি এলাকার কয়েকটি ফসলী মাঠের হাজারো কৃষক।

স্থানীয় কৃষক, বাসিন্দা, কৃষি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, পাউলি এলাকায় থাকা নবাবগঞ্জ-আমনুরা সড়কে থাকা কালভার্টের নিচ দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিমে থাকা অন্তত পাঁচটি মাঠের বর্ষায় অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন হয়। এতদিন ধানের জমির উপর দিয়েই কয়েক হাজার বিঘা জমির পানি নিষ্কাশন হওয়ায় নিচু এলাকার জমিগুলোতে ধান চাষাবাদে ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এমন অবস্থায় খাল সংলগ্ন এলাকায় থাকা জমিগুলো ভরাট করে অন্যান্য ফসল চাষাবাদ শুরু করেছেন জমির মালিক। এতে তারা মাটির নিচ দিয়ে আধুনিক উপায়ে কনক্রিটের ঢালাই পাইপ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণ করেছে। এতে বাধাবিঘ্ন ছাড়াই যাচ্ছে বর্ষার অতিরিক্ত পানি।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে ধানের জমির মধ্য দিয়ে পানি যাওয়ার ফলে কালভার্টের নিচ দিয়ে পানি নিষ্কাশন হতে অনেক সময় লাগতো। এখন কালভার্ট থেকে সরকারি খাল পর্যন্ত পাইপ দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করার দ্রুত পানি নিষ্কাশন হচ্ছে। এতে ধানের জমি থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশন হওয়ায় খুশি কৃষকরা। তাদের দাবি, একই পরিমাণ পানি নামতে যেখানে সময় লাগতো ৭-৮ দিন, সেখানে ড্রেন নির্মাণের পর পানি নামছে মাত্র ৩-৪ দিনে। ড্রেনের কারনে তেমন কোন ক্ষতি ছাড়াই নামছে অতিরিক্ত পানি।

কৃষক তারেক রহমান, আব্দুর রহিম, আবুল কালাম আজাদ জানান, এই কালভার্টের নিচ দিয়ে আমুনরা সংলগ্ন এলাকার অন্তত ৫টি মাঠের জমির পানি নামে। দীর্ঘদিন ধরে পানি নামতো ফসলী জমির ধানের উপর দিয়ে। এতে মাঠের নিচদিকে থাকা জমিগুলোর ধান পাওয়া যেত না। এমনকি পানি নামতেও সময় লাগতো দীর্ঘ সময়। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ড্রেন নির্মাণের কারনে হাজার হাজার কৃষকের অনেক উপকার হয়েছে। পানি নিষ্কাশন আরও বেশি সুবিধাজনক হয়েছে।

কৃষি উদ্যোক্তা উমর ফারুক বলেন, আমি নিজেও একজন কৃষক। কালভার্টের উত্তরে ও সরকারি খালের মাঝের জমিটুকু চাষাবাদ করে কোন লাভ হতো না। দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় ফসল ফলতো না। ক্ষতিগ্রস্ত হতে হতো। তাই বাধ্য হয়েই জায়গাটি ভরাট করে ফলবাগান তৈরি করতে উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু উঁচু জমির অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করতেই কৃষকদের সুবিধার কথা ভেবে মাটির নিচ দিয়ে ৭-৮ লাখ টাকা খরচ করে ড্রেন নির্মাণ করেছি। এই ড্রেন দিয়ে সবসময় পানি যাচ্ছে এবং উপরে ফসল চাষাবাদের উপযোগী করা হয়েছে। কৃষকদের সুবিধার্থেই ব্যক্তিগত অর্থে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এনিয়ে ঝিলিম ইউনিয়নের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানান, কালভার্টের সাথে নির্মাণ করা ড্রেনটি দিয়ে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে সবসময়। আগে ফসলী জমির ধানের উপর দিয়েই পানি নামতো। এখন তা ড্রেনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ড্রেন নির্মানে কোন সমস্যা হয়নি, বরং ব্যক্তিগত খরচে হওয়া ড্রেনের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিকভাবে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!