এইচ এম সাগর, সাভার উপজেলা প্রতিনিধি:
মাদকের বিরুদ্ধে চলমান ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-উত্তর) পৃথক দুটি সফল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ তিনজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভিন-এর সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-উত্তর)-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে এই সাফল্য অর্জন করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় গত ২১ জুলাই দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে সাভার মডেল থানার বড়দেশী পশ্চিমপাড়া এলাকায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিবি (উত্তর)-এর উপ-পরিদর্শক (এসআই-নিঃ) মো. মতিউর রহমান। সংগীয় পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুইজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সাভারের আমিনবাজার বড়দেশী পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা রুপ ভানু ওরফে রুপি (৫৫) এবং তার মেয়ে তাহমিনা (২৭)।
অভিযান চলাকালে তাদের হেফাজত থেকে ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয় ২২ জুলাই রাত ২টা ৩০ মিনিটে ধামরাই থানাধীন কালামপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিবি (উত্তর)-এর এসআই (নিঃ) মো. জুয়েল মিয়া।
অভিযানকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে মো. মাসুদ রানা (২৩) নামে এক পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। তিনি ধামরাই উপজেলার কালামপুর এলাকার বাসিন্দা এবং মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার মোট ওজন প্রায় ৫ গ্রাম এবং এর আনুমানিক বাজারমূল্যও প্রায় ১৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রুপ ভানু ওরফে রুপি-এর বিরুদ্ধে পূর্বে দুটি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়া মাসুদ রানা-র বিরুদ্ধেও একটি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ধারণা করছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাদকের উৎস, সরবরাহ চক্র এবং তাদের সহযোগীদের শনাক্ত করতে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে আরও তথ্য উদ্ঘাটনে গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ঢাকা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের ঘোষিত নীতির আলোকে জেলার সর্বত্র নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক উৎপাদন, পরিবহন, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় কিংবা সরবরাহের সঙ্গে জড়িত কাউকেই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করালগ্রাস থেকে রক্ষা করতে জেলা পুলিশের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।
গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রতিনিধি