সুনামগঞ্জে জামায়াতের সীরাতুন্নবী মাহফিলে মুফতি আলী হাসান উসামা
মোঃ মোশফিকুর রহমান স্বপন সুনামগঞ্জ:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুনামগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাহফিলে নবীজি (সা.)-এর জীবনী ও আদর্শের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি সমসাময়িক রাজনীতি ও নির্বাচন প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন প্রধান আলোচক ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও গবেষক মুফতি আলী হাসান উসামা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
সুনামগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমির আব্দুস সাত্তার মু. মামুনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মো. শামছউদ্দিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহেরা জামেয়া ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কলাউড়া ফাজিল মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুছ ছাত্তার এবং বাংলাদেশ মাজলিসুল মোফাসসিরিনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মুফতি আলী হাসান উসামা বলেন, নবীজি (সা.) মদিনায় যাওয়ার পর দেখলেন, সেখানকার বাজারের নিয়ন্ত্রণ ইয়াহুদিদের হাতে। তারা সুদ, জালিয়াতি ও অনিয়মের মাধ্যমে বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। এরপর আল্লাহর নবী (সা.) স্বতন্ত্র একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে সুদ, জালিয়াতি ও অনিয়ম বাদ দিয়ে ইসলামী পদ্ধতিতে লেনদেন পরিচালিত হতো। নবীজি (সা.) নিজে গিয়ে সেই বাজারের কার্যক্রম মনিটরিং করতেন।
তিনি বলেন, একটি খাদ্যের স্তূপের মধ্যে নবীজি (সা.) হাত ঢুকিয়ে নিচের অংশ ভেজা দেখতে পান। তখন তিনি সাহাবিকে জিজ্ঞেস করেন, ‘উপর দিয়ে শুকনো, ভিতরে ভেজা কেন?’ জবাবে সাহাবি বলেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ, আমার দোষ নেই, বৃষ্টিতে ভিজেছে।’
মুফতি আলী হাসান উসামা বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন বলেন, বৃষ্টিতে ভিজেছে ভালো কথা, কিন্তু নিচে শুকনো রেখে উপরে ভেজাটা রাখলে কেন? এরপর তিনি বলেন, ‘আমার উম্মতকে যারা ধোঁকা দেয়, তারা আমার উম্মত হিসেবে পরিচয় দেওয়ার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে।’
সমসাময়িক রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সামান্য একজন ক্রেতাকে ধোঁকা দেওয়ার বিষয়টিও যদি এত গুরুতর হয়, তাহলে এ যুগে কোটি কোটি মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার বিষয়টি কীভাবে দেখা হবে, তা আল্লাহই ভালো জানেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোটি কোটি মানুষের ভোটে ক্ষমতায় গিয়ে বলতাম, আসলে আমরা তো এগুলো চাই-ই না। কিন্তু এই কথাগুলো না বললে নির্বাচন তো দিত না। নির্বাচন আদায়ের জন্য একটু বলতে হয়েছে আরকি! আমরাও চাই, আমরাও চাই। এখন যখন নির্বাচন হয়ে গিয়েছে, এখন আমাদের কাঁধে আর কোনো দায় নেই।’
গণভোট ও সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এমনকি নিজেদের সর্বোচ্চ নেতা পর্যন্ত গণভোটের পক্ষে কথা বলে মানুষকে উৎসাহ দিয়ে এখন এগুলো সংবিধানবিরোধী বলা হচ্ছে। সংবিধানে নতুন নতুন হাফেজ সাহেব দাঁড়িয়ে, তারাও পর্যন্ত সংবিধানের কথা শুনিয়ে দেন। তাহলে পূর্বে কি সংবিধানের কথা মনে ছিল না?’
মুফতি আলী হাসান উসামা বলেন, ‘এগুলো ধোঁকা ছাড়া আর কিছু না। যারা একজনকে ধোঁকা দেয়, তারা যদি উম্মত হওয়ার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে, আর যারা কোটি কোটি মানুষকে ধোঁকা দেয়, তাদেরকে কোন ক্যাটাগরিতে ফেলা যায়—আল্লাহই ভালো জানেন।’