মো: গিয়াস উদ্দীন, উখিয়া প্রতিনিধি:
ন্যায্যতার ভিত্তিতে উখিয়ার হলদিয়া পালং ইউনিয়ন বিভাজনের দাবি এবং বর্তমান ম্যাপের চরম অসঙ্গতির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় সাধারণ জনগণ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ৭টায় উপজেলার স্থানীয় এক মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত বিভাজনে মূল হলদিয়ার ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধান অংশকে রুমখাপালং ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি হলদিয়াবাসীকে নেতৃত্বশূন্য করার একটি সুদূরপ্রসারী পাঁয়তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, "ইউনিয়ন বিভাজনের ক্ষেত্রে 'খাল' বা প্রাকৃতিক সীমানাকে মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা উচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে যে ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অন্যায্য এবং অবাস্তব। সাধারণ জনগণের মূল দাবি—ইউনিয়নের বিভাজন অবশ্যই ভৌগোলিক 'খালে খালে' হতে হবে। খালের উত্তর অংশে যেসব এলাকাকে রুমখাপালং ইউনিয়নের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, সেগুলোকে অবশ্যই আগের হলদিয়া অংশের আওতাভুক্ত রাখতে হবে। এটিই এলাকার সর্বসম্মত দাবি।"
বক্তারা আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "মৌজা ভিত্তিক এই বিভক্তি কোনোভাবেই ন্যায্য নয়। বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি মরিচ্যা পালং মৌজায় অবস্থিত। এভাবে চলতে থাকলে তারা কয়েকদিন পর দাবি তুলবে ইউনিয়ন পরিষদের নাম পরিবর্তন করে 'মরিচ্যা পালং' রাখা হোক। আমরা আমাদের ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক অধিকার কেড়ে নিতে দেব না।"
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক জনাব জাহাঙ্গীর রফিক, মোজাম্মেল শিকদার, সোহেল শিকদার রানাসহ এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণ।
বক্তারা ঘোষণা দেন, এই অন্যায্য ম্যাপের প্রতিবাদে বিকাল ৩ ঘটিগায় হলদিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এক বিশাল মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়েছে। যদি অতি দ্রুত জনগণের এই যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত দাবি মেনে নেওয়া না হয়, তবে আগামীতে আইনি পদক্ষেপসহ আরও কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত রাখা হবে।
উপজেলা প্রতিনিধি