মো আরিফুল ইসলাম,ঝিনাইদহ (কালীগঞ্জ):
পৃথিবীতে আসার আগেই নিয়তির নির্মম পরিহাসে মা হারিয়েছেন যে শিশুটি তার জীবনের প্রথম সূর্যগ্রহণ হয়ে এসেছিল এক ভুল চিকিৎসা। মায়ের আদর কিংবা মুখের ভাষা বোঝার আগেই তাকে সইতে হয়েছে চরম শূন্যতা। তবে এই ঘোর অন্ধকারেও আশার প্রদীপ জ্বেলে ছায়ার মতো তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন মানবিক হৃদয়ের অধিকারী ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ।
অফিসের দাপ্তরিক ব্যস্ততা দূরে ঠেলে ছুটে যান উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগাছিয়া গ্রামে শিশুটির নানা বাড়িতে। পৌঁছেই তিনি ১ দিনের নবজাতক শিশুটিকে পরম যত্নে নিজের কোলে তুলে নেন। তার কপালে হাত বুলিয়ে দেন পাশে থাকার আশ্বাসের ছোঁয়া। চোখের পলকে এক আবেগঘন ও হৃদয়বিদারক পরিবেশ তৈরি হয় সেখানে।
এ সময় শিশুটির নানীর হাতে তুলে দেওয়া হয় নবজাতকের প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড়,খাদ্য সামগ্রীসহ ১০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা।
গত রবিবার প্রসবের তীব্র বেদনা নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজার এলাকার ‘নিউ মডার্ন গরীব শাহ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলেন শিল্পী খাতুন (৩৫)। তিনি উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগাছিয়া গ্রামের ইয়ার আলীর স্ত্রী। অপচিকিৎসায় অপারেশন টেবিলেই মৃত্যু হয় তার আর আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে যাই সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া নবজাতক কন্যা। ওই পরিবারের প্রতি কেবল সমবেদনা জানিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি এই কর্মকর্তা, অপরাধীর বিরুদ্ধে নিয়েছেন দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ। সোমবার সকালে ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদের সরাসরি উপস্থিতিতে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আমানুল্লাহ আল মামুনের সহযোগিতায় ওই ক্লিনিকে অভিযান চালানো হয়। অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ক্লিনিকটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও অভিযুক্ত ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়।