রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

হাওরের পরিবেশ রক্ষায় হিজল-করচ বন ফিরিয়ে আনার আহ্বান

জেলা প্রতিনিধি
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৩ pm
হাওরের পরিবেশ রক্ষায় হিজল-করচ বন ফিরিয়ে আনার আহ্বান

সুনামগঞ্জে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলা-২০২৬ উদ্বোধন

মোঃ মোশফিকুর রহমান স্বপন 
সুনামগঞ্জ:

‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জে শুরু হয়েছে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও সপ্তাহব্যাপী  জেলা বৃক্ষমেলা-২০২৬। হাওরাঞ্চলের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা হিজল-করচ বন ও জলমগ্ন তৃণভূমি পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বালুর মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জেলা বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করা হয়। এর আগে শহরে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালি শেষে বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান  ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার, সুনামগঞ্জ জেলা বন অফিসের রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন সহ সংশ্লিষ্টরা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনায় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি মেলায় বেশি বেশি দর্শনার্থী আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষ যেন এখান থেকে গাছের চারা সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনাসহ উপযুক্ত স্থানে রোপণ করেন এবং নিয়মিত পরিচর্যা করেন।

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন, সুনামগঞ্জ মূলত হাওরাঞ্চল। এখানকার প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি হলো মৎস্যসম্পদ। হাওরের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে অন্য কোনো জীবিকা দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাই হাওর সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, একসময় হাওরের নদী ও খালের দুই তীরে ব্যাপক হিজল-করচ বন এবং জলমগ্ন তৃণভূমি ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এসব বন ও তৃণভূমি ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ১৯৯০ ও ২০০০ সালের সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করলে হিজল-করচ বন প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এখন এসব বন ও তৃণভূমি পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বলেন, হিজল-করচ বন বর্ষাকালে আকস্মিক বন্যার পানির গতি কমিয়ে দেয়। এতে হাওরাঞ্চলের মানুষের বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও জীবনযাত্রা সুরক্ষায় সহায়তা করে। অন্যদিকে জলমগ্ন তৃণভূমি মাছের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে। এসব এলাকায় মাছ ডিম ছাড়ে, বাচ্চা বড় হয় এবং একই সঙ্গে পলি আটকে রাখার ক্ষেত্রেও তৃণভূমির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, না বুঝে আমরা অনেক বন ও তৃণভূমি কেটে ধানক্ষেত তৈরি করেছি। কিন্তু ধান চাষ প্রাকৃতিক দুর্যোগনির্ভর হওয়ায় প্রতিবছর এর নিশ্চয়তা থাকে না। একই সঙ্গে হাওরের মাছের আবাসস্থল নষ্ট হওয়ায় মৎস্যসম্পদও কমে গেছে। প্রায় ২০ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে মাছের পরিমাণ অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আব্দুর রহমান বলেন, সুনামগঞ্জ মৎস্যসম্পদ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও চাষ করা গেলে মানুষের জীবিকার সুযোগ আরও বাড়বে। তিনি বলেন, হাওরে বন ও তৃণভূমি থাকা শুধু পরিবেশের জন্য নয়, মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নয়; জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বাড়ির আঙিনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তার পাশে, পতিত জমি, নদীর তীর ও খালের পাড়ে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!