বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

ইয়াবা-ট্যাপেন্টাডলসহ ডিবির অভিযানে ৮ আটক

এইচ এম সাগর সাভার উপজেলা প্রতিনিধি
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৪ pm
২২১
ইয়াবা-ট্যাপেন্টাডলসহ ডিবির অভিযানে ৮ আটক

ঢাকার আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩৮০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তর। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পেশাদার মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ) সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটের দিকে আশুলিয়া থানাধীন বাইপাইল চাড়ালপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ঢাকা জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) অভিযান পরিচালনা করে।

ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) এর অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ আঃ মুত্তালিবের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এ অভিযানে অংশ নেয়।

অভিযানের একপর্যায়ে বাইপাইল চাড়ালপাড়া এলাকা থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৩৮০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটের আনুমানিক মূল্য ৩০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ৩৮০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটের আনুমানিক মূল্য ৪৫ হাজার ৬০০ টাকা। উদ্ধার করা মাদকের মোট আনুমানিক মূল্য ৭৫ হাজার ৬০০ টাকা বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. আলিফ ইসলাম (২০), পিতা আনোয়ার হোসেন, মাতা মৃত রেভা বেগম; মো. নাহিদ ইসলাম (১৯), পিতা মৃত শফিকুল ইসলাম, মাতা নাসিমা বেগম; মো. রমজান (১৯), পিতা সোহেল, মাতা আকলিমা; মো. আঃ মজিদ (৩০), পিতা আইজ উদ্দিন, মাতা নাসিমা বেগম; আশিকুল ইসলাম আসিফ (২৪), পিতা হারুন মিয়া, মাতা আকলিমা; মো. আসাদ তালুকদার (২৬), পিতা মৃত আঃ জলিল, মাতা হামিদা বেগম; শ্রী শাওন মন্ডল (২০), পিতা প্রকাশ মন্ডল, মাতা বিনোদীনি মন্ডল এবং মো. রহিদ (১৯), পিতা রাশেদ, মাতা রিনা খাতুন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আলিফ ইসলাম আশুলিয়ার বাইপাইল দক্ষিণ চাড়ালপাড়া এলাকার বাসিন্দা। নাহিদ ইসলামের স্থায়ী ঠিকানা গাইবান্ধার পলাশবাড়ি এলাকায় হলেও তিনি আশুলিয়ার বাইপাইল চাড়ালপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন।

রমজান আশুলিয়ার দক্ষিণ গাজীরচট এলাকার বাসিন্দা। আঃ মজিদ বাইপাইল চাড়ালপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। আশিকুল ইসলাম আসিফ দক্ষিণ বাইপাইল এলাকার বাসিন্দা। আসাদ তালুকদারের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল এলাকায় এবং তিনি দক্ষিণ বাইপাইল এলাকায় বসবাস করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শ্রী শাওন মন্ডলের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা এলাকায়। তিনি আশুলিয়ার বাইপাইল ডংলিয়ন ফ্যাক্টরির পেছনে এলাকায় বসবাস করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। অপর গ্রেপ্তার মো. রহিদের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী এলাকায়। তিনি আশুলিয়ার বগাবাড়ী সোনিয়া মার্কেট এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন বলে জানানো হয়েছে।

ঢাকা জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, গ্রেপ্তার আটজনের মধ্যে মো. রমজান (১৯)-এর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রয়েছে।

এ ছাড়া আশিকুল ইসলাম আসিফের (২৪) বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা এবং অন্যান্য ধারায় আরও একটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে এসব মামলার বর্তমান বিচারিক অবস্থার বিষয়ে পুলিশের দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। ফলে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আশুলিয়া ও শিল্পাঞ্চল এলাকাগুলোতে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

বাইপাইল চাড়ালপাড়া এলাকায় ডিবির এই অভিযানেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, মাদক সরবরাহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানের পর গ্রেপ্তার আটজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার কার্যক্রম শেষে তাদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে এবং মাদক ব্যবসা ও মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!