মোঃ মোশফিকুর রহমান স্বপন (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নৈনগাঁও গ্রামে মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
গুরুতর আহত দুজনকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে নৈনগাঁও গ্রামের রফিক মিয়ার ভাতিজা আব্দুল জব্বারের বসতঘর থেকে মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সেলিম মিয়ার ভাতিজা সালমিন মিয়াকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক তাকে মাদকদ্রব্য সেবনের দায়ে কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠান।
ঘটনার দুই দিন পর আব্দুল জব্বার চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনগুলো খুঁজে পান।
এ নিয়ে নৈনগাঁও গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
শনিবার দুপুরে ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কে সেলিম মিয়ার স্বজনরা রফিক মিয়ার স্বজন ইজিবাইকচালক শামীম আহমদকে মোবাইল ফোন খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
এ সময় সালমিনের স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করা হলে শামীম আহমদ এর প্রতিবাদ করেন।
পরে শামীম আহমদকে আটকের খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে রফিক মিয়ার লোকজন ও সেলিম মিয়ার সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের ৪৫ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে রফিক মিয়ার পক্ষের শামীম মিয়া, মঈন উদ্দিন, আঙ্গুর মিয়া, সোহেল মিয়া, ফুলতেরা বেগম, হেলাল মিয়া, আল-আমিন, বাসির, পাভেল, ফাহিম, দেলোয়ার হোসেন, আলী হোসেন, সেলিম আহমদ, মোস্তাক হোসেন, তোফায়েল আহমদ, জুবায়েল আহমদ, আনোয়ার হোসেন ও ওবায়দুর রহমান রয়েছেন।
অপরদিকে সেলিম মিয়ার পক্ষের ফয়েজ আহমদ, জহুর আলী, লিয়াকত আলী, তমির উদ্দিন, সোহেল মিয়া, আল-আমিন, আক্তার হোসেন, এলম মিয়া, সালিম উদ্দিন, কলিম উদ্দিন, কামাল হোসেন, নিজাম উদ্দিন, কামরুল ইসলাম, রুহুল আমিন, রহিমা বেগম, সুজিনা বেগম, আছাবুন্নেসা, আনিছা বেগম, মছব্বির আহমদ, আব্দুল কাইয়ুম, জামিল আহমদ, তাজির উদ্দিন, জাবেদ, রুবেল, স্বরূপা বেগম, কালা মিয়া, মাহদী, খসরু মিয়া, সোহাগ ও আলাইসহ উভয় পক্ষের লোকজন আহত হন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুই পক্ষের সংঘর্ষের কারণে ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে সড়ক দখল করে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয় পক্ষের ৪৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষ থানায় কোনো মামলা দায়ের করেনি।”