অনলাইন: ২১ জুলাই ২০২৬,
দুর্নীতির মূল নায়করা পার পেয়ে যায় কিভাবে
বিশ্বকাপের ডামাডোলে খবরটি হয়তো অনেকের চোখে পড়েনি। স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনালের সম্ভবত দিন তিনেক আগে খবরটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়। শিরোনাম ছিল সাবেক সচিব শাহ কামাল গ্রেফতার। এই খবরের সঙ্গে একটা ফটো সহ সেই সময়কার দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের একটি বক্তব্য প্রচার হয়। কন্টেক্সট বোঝার জন্য বলা প্রয়োজন যে, হাসিনা সরকারের আমলে শাহ কামালের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ আসার পর তদন্ত শুরু হয়েছিল। এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয় শাহ কামালকে গ্রেফতার করার। তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তৎকালীন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের কাছে অনুমতি নিতে গেলে তিনি তাকে ধমক দিয়ে বলেন, বেশি হিরো গিরি দেখাইতেছো! কোন সিটিং সেক্রেটারির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
এ প্রসঙ্গে বলে রাখি শাহ কামাল যে গ্রেফতার হলো কদিন আগে সেটা দুর্নীতির কারণে না। তিনি পতিত আওয়ামী সরকারের দোসর ছিলেন বলে পত্রপত্রিকায় দেখেছি এবং সে কারণেই পুলিশ তাকে ধরেছে।
এই খবরটা যখন দেখলাম তখন বারবার মনে হচ্ছিল যে বর্তমান তারেক রহমানের সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে দুর্নীতি দমন কমিশনকে অনেকটা অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। সরকারের প্রায় পাঁচ মাস বয়স হলেও আজ পর্যন্ত সেখানে কোন চেয়ারম্যান বা কমিশন সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি। স্বভাবতই বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিচ্ছে।
এবার আসি সেই সময়ের দুদক চেয়ারম্যান প্রসঙ্গে। ইকবাল মাহমুদ ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দুদকের চেয়ারম্যান ছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার অব্যবহিত পরেই তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনরকম আপোষ করবেন না। এবং কমিশন যে একটি স্বাধীন সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান সেটা তিনি প্রমাণ করে দেখাবেন। এর কিছুদিন পর অনেক বড় বড় শিল্পপতি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হল। স্বাভাবিকভাবে আমরা খুব আশান্বিত হলাম। ভাবলাম এবারে হয়তো সত্যিকার অর্থে কিছু রেজাল্ট আমরা দেখতে পাবো এবং ব্যবসায়ী বা শিল্পপতি নামে এই দুর্বৃত্তরা এবার পার পাবে না।
এরপর ২০২২ সালে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ প্রায় শেষ হওয়ার আগে ইনকিলাব পত্রিকা একটা বড় খবর ছাপে। এর প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল দুদক চেয়ারম্যান দায়িত্ব ছাড়ার আগে তড়িঘড়ি করে প্রায় ২০০ অভিযুক্তকে দায় মুক্তি দিয়েছেন। এরমধ্যে বেসিক ব্যাংক লুণ্ঠনকারী তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুও ছিল বলে জানতে পেরেছিলাম।
খবরটি ছাপা হওয়ার পর হাইকোর্ট সপ্রণোদিত হয়ে একটি রুল জারি করেন এবং দুদককে দু সপ্তাহের মধ্যে দায়মুক্তিপ্রাপ্ত অভিযুক্তদের নাম এবং ঠিকানা আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেন। কিন্তু দুদক সে নির্দেশ পালন করেনি এবং আদালতে সেই তালিকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এদেশের বিচার ব্যবস্থা যে কখনোই স্বাধীন ছিল না এটা তার আর একটা প্রমাণ। কারণ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দুদককে এই নির্দেশ অমান্য করতে বলেছে বলে প্রতিমান হয়েছিল।
পরে জানা গেল ইকবাল মাহমুদ নিজে কয়েক শ' কোটি টাকার বিনিময়ে তাদেরকে দায়মুক্তি দিয়েছিল।
বাংলাদেশে যেটা সব সময় হয় সেটাই হলো। আপনারা সবাই জানেন ক্ষমতাধরদের এখানে কেউ ধরতে পারে না। ইকবাল মাহমুদও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। দায় মুক্তি দেওয়ার পর পরই তিনি কানাডা চলে যান এবং সেখানেই বহালতবিয়াতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। শুনতে পাই তিনিও সেখানকার কুখ্যাত বেগম পাড়ার বাসিন্দা।
এগুলো যখন দেখি তখন দেশ সম্পর্কে আর তেমন আশাবাদী হতে পারি না। এই হতাশার কারণ তারেক রহমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভেবেছিলাম অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সময় ঘটা দুর্নীতির অভিযোগগুলো তদন্ত শুরু হবে। বাস্তবে মুহাম্মদ ইউনুস ভাতার অন্যান্য সহযোগীদের ব্যাপারে দুদক থেকে কোন নড়াচড়া দেখতে পাইনি। শুধু তাই না ইউনুসকে নানান সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এসএসএফের প্রটেকশন সহ।
এগুলো দেখার পরও আশা ছাড়ি না এবং দেখতে চাই তারেক রহমানের সরকার ইকবাল মাহমুদ নামক এই দুর্বৃত্তকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের ব্যবস্থা করবে। একইসঙ্গে ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগগুলো আছে সেগুলোর অতিসত্বর তদন্ত শুরু হবে। শুধুমাত্র এটা করলেই তারেক রহমানের ইমেজ অনেকটা ভালো হবে বলে বিশ্বাস করি।
Arshad Mahmud's Post
মিডিয়া ওয়াচ
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
নিউজ ডেস্ক