শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

মসজিদের জমি দখল ও মাটি বিক্রির অভিযোগ প্রতিবাদ করায় হামলা-হয়রানির হুমকি, ভবনে ফাটল

আর এ লায়ন সরকার
শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১০ pm
মসজিদের জমি দখল ও মাটি বিক্রির অভিযোগ প্রতিবাদ করায় হামলা-হয়রানির হুমকি, ভবনে ফাটল
মাদ্রাসা মসজিদ ছবি

মসজিদের জমি দখল ও মাটি বিক্রির অভিযোগ

প্রতিবাদ করায় হামলা-হয়রানির হুমকি, ভবনে ফাটল

নরসিংদী প্রতিনিধি:

নরসিংদীতে মসজিদ ও মাদ্রাসার জমি দখল, জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি, চলাচলের রাস্তা বন্ধ এবং প্রতিবাদ করায় হামলা ও হয়রানির হুমকির অভিযোগ উঠেছে মাসুদ মাস্টার ও তার বড় ছেলে আতাউর রহমান সোহেলের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মসজিদের নামে থাকা জমির একটি অংশের প্রায় চার শতাংশ জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে মাটি কেটে বিক্রি করা হয়েছে। এতে জমিতে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পাশের বসতবাড়ি ও ভবনের ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় খলিল মিয়া বলেন, মাটি কাটার কারণে সৃষ্ট গর্তের প্রভাবে তার ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় ভবন ধসে পড়ে প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, মসজিদের জমি নিয়ে বিরোধের মধ্যেই ওই জায়গা থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সেখানে আবারও মাটি ভরাট করে জমি বিক্রির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে জমির প্রকৃত মালিকানা ও সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকায় বিষয়টি সরকারি নথিপত্র যাচাই করে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মসজিদের জমি নিয়ে প্রতিবাদকারী সোহেল মিয়ার ছোট ভাই বলেন, তাদের ফুপু মসজিদের নামে যে জমি দিয়ে গেছেন, সেটি মসজিদের কাছেই ফিরিয়ে দিতে হবে। মসজিদের সম্পত্তি নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দখল মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে জুয়েল মিয়া অভিযোগ করেন, মসজিদের জমি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ ও প্রতিবাদ করায় তাকে তার আপন ছোট ভাই রায়হান হত্যা মামলায় ছয় বছর ধরে জড়ানো হয়েছে। তার দাবি, গত ১৬ আগস্ট আতাউর রহমান সোহেল তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন।

প্রতিবেশী জামাল মিয়া বলেন, জুয়েল মিয়ার ওপর হামলার চেষ্টা হলে তারা ঘটনাস্থলে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে হামলাকারীর কাছ থেকে একটি দেশীয় অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে জুয়েল মিয়া বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পান বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর জুয়েল মিয়া নরসিংদী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে জানা গেছে। তার অভিযোগ, মসজিদের জমি মসজিদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করায় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে বাড়িছাড়া করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জুয়েল মিয়ার আরও অভিযোগ, গত ১৬ আগস্ট সোহেল মিয়া ও তার মামা তাকে বাড়িছাড়া করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়েছেন। সম্পত্তি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন মামলায় হয়রানি করারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তার।

এ ছাড়া বাড়ির বেড়া খুলে দেওয়া, বাড়ির পাশে খোলা টয়লেটের মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং গরুর গোবর ফেলে বেড়া ও আশপাশের জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গন্ধময় করার অভিযোগও করেছেন জুয়েল মিয়া। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাকে বাড়ি ছাড়তে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে জুয়েলের চাচা জাহিদুল অভিযোগ করেন, তার জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে রাস্তা চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

‘চাপ সৃষ্টি করে জমি দলিল করে নেওয়া হয়েছে’

মসজিদ ও মাদ্রাসার বড় হুজুর মাওলানা আসাদুল্লাহ বলেন, সংশ্লিষ্ট জমিটি দলিল করার সময় আতাউর রহমান সোহেল চাপ সৃষ্টি করে জমিটি দলিল করে নিয়েছেন বলে তিনি জানেন। তবে জমির মালিকানা ও দলিলের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে জানান স্থানীয়রা।

জুয়েল মিয়া জানান, এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে তিনি পরিবেশ অধিদপ্তর ও নরসিংদীর পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, মসজিদের জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ, মসজিদের জমি মসজিদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে আতাউর রহমান সোহেল ও তার বাবা মাসুদ মাস্টারের বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা তাদের বাড়িতে গিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে ওই সময় তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে সোহেল মিয়ার বাড়ির সাইনবোর্ডে থাকা মোবাইল নম্বরে ফোন করে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। ফলে তাদের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়রা বলছেন, মসজিদ ও মাদ্রাসার জমি নিয়ে বিরোধ, মাটি কাটার কারণে ভবনের নিরাপত্তাঝুঁকি, রাস্তা চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং হামলা-হুমকির অভিযোগ—সব বিষয়ই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জমির দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর ও সীমানা যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!